‘ওডিশি ছাড়া আর কিছুতে মন দিতে পারিনি’

203

ভারতের নৃত্যশৈলী বারবার মুগ্ধ করেছে বিশ্ববাসীকে৷ সেই নাচের টানেই সূদূর বিদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন তিনি৷ তারপর আর ফিরে যাওয়া হয়নি৷ বর্তমানে ভারতের ওডিশায় তাঁর বাস৷ ওডিশি নৃত্য তাঁর প্রাণ৷ তিনি মাসাকো ওনো৷ ওডিশা থেকে ফোনে শোনালেন তাঁর অসামান্য জীবন কাহিনি৷ শুনলেন অন্যতমা দাস

ছোটবেলার কথা মনে পড়ে?

মাসাকো:  হ্যাঁ৷ জাপানের টোকিও শহরেই বড় হয়েছি৷ ছোটবেলা থেকেই নাচ ভালবাসতাম৷ মনে পড়ে সেসময়ই মর্ডান ডান্স ও হিপহপ শিখতাম৷

হিপহপ ছেড়ে হঠাৎ ওডিশি নাচ?

মাসাকো ভারতের নৃত্যশৈলী বরাবরই টানত৷ একবার টোকিওতেই গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের একটা নাচের ভিডিও দেখেছিলাম৷ সে নাচ আমায় মুগ্ধ করেছিল৷ তখনই ঠিক করেছিলাম ওডিশি নাচ শিখতেই হবে৷japanese-1

টোকিও থেকে ভারতে আসা কীভাবে?

মাসাকো গোটা জাপান খুঁজেও এমন কাউকে পাইনি যিনি ওডিশি নাচ শেখান৷ তখন বয়স মাত্র ২৩৷ শেষে ইন্ডিয়ান অ্যাম্বাসিতে খোঁজ নিই৷ সেখানেই খোঁজ পাই বেঙ্গালুরুর নৃত্যগ্রামের৷ সালটা ১৯৯৬৷ ভারতে চলে আসি৷

ওডিশির তালিম কার কাছে?

মাসাকো ওডিশি নাচ শিখব বলেই টোকিও ছেড়ে সোজা চলে আসি বেঙ্গালুরুর নৃত্যগ্রামে৷ গুরুমা প্রতিমা গৌরি বেদীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ওডিশি নাচের প্রতি ভালবাসার কথা জানাই৷ যদিও ভারতে আসার আগে ওডিশি নিয়ে অনেক রিসার্চ ওয়ার্ক করেছিলাম৷ গুরুমা আমার অনুরোধ ফেলতে পারেননি৷ তাঁর কাছেই হাতে খড়ি, তাঁর কাছে ওডিশি নৃত্যের যাবতীয় শিক্ষা৷

ওডিশি ছাড়াও তো ভারতেও আরও ছটি শাস্ত্রীয় নৃত্য রয়েছে৷ সেগুলি শিখতে ইচ্ছা করেনি?

মাসাকো আমি একজন নৃত্যশিল্পী৷ সেকারণে ওডিশি ছাড়াও ভরতনট্যম, কত্থক নাচ শিখেছি৷ কিন্তু ওডিশির মত অন্য কোনও নৃত্যশৈলীকে আমি মন দিতে পারিনি৷

এখন কি পাকাপাকি ভাবেই ওডিশায় বাস?

মাসাকো হ্যাঁ, আপাতত ভুবনেশ্বরেই থাকছি৷ সেখানে একটা ওডিশি নাচের স্কুল রয়েছে৷ ভুবনেশ্বরে ফ্রান্স, ইটালি ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রছাত্রীরা ওডিশি শিখতে আসেন৷japanese-3

তাহলে টোকিও?

মাসাকো প্রতি দু’মাস অন্তর সেখানে যাই৷ সেখানেও ওডিশি নাচের স্কুল করেছি৷ আমার মতো যাতে কাউকে দেশ ছেড়ে না আসতে হয় সে কারণেই৷ সে দেশের মানুষও ওডিশি নাচকে ভালবাসছেন৷ টোকিও ছাড়াও অবশ্য বিশ্বের অনেক দেশেই ওডিশি নাচ পরিবেশন করেছি৷

ওডিশি নিয়ে তো ওয়ার্কশপও করেন?

মাসাকো হ্যাঁ, যারা নিয়মিত চর্চা করতে পারেন না ওয়ার্কশপ তাঁদের খুব কাজে লাগে৷ ভুবনেশ্বরে মাঝেমাঝেই ওয়ার্কশপ করি৷ সেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে শিল্পীরা যোগ দেন৷ যদিও এই ওয়ার্কশপটা করি স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে৷

আর আপনার এনজিও?

মাসাকো শিল্পকে চারদিকে ছড়িয়ে দিতেই এই এনজিও তৈরি৷ নাম দিয়েছি মুদ্রা ফাউন্ডেশন৷ ২০১৩ সালেই প্রথম এই সংস্থার মাধ্যমে ‘ওডিশা বিইনালে’ লঞ্চ করা হয়েছে৷ এর মাধ্যমেই ট্রাইবাল, ফোক, ক্লাসিক্যাল ও কনটেম্পোরারি আর্ট ফর্মকে এক ছাতার তলায় আনার প্রচেষ্টা৷ আমার সংস্থার মাধ্যমে যারা সুযোগ পায় না তাদের তুলে ধরার চেষ্টা করি৷ বিগত দু’বছরে ওডিশা বিইনালে বেশ প্রচারের আলোয় এসেছে৷ এবছরেও ফের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছি৷ এ বছরে জাপানের অ্যাম্বাসাডর তাকেশি ইয়াগি ও সুইৎজারল্যান্ডের অ্যাম্বাসাডর ও তাঁর স্ত্রী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন৷