‘অনুভূতির আশ্রয় খুঁজে নিতে চেয়েছিলাম কেকের মধ্যে…’

232
debjani
দেবযানী সরকার….

প্রিয়জনের আনন্দের দিনে কেক তো আনা হয়, তাতে নামও লেখা হয়, কিন্তু সেই সব কেকে মনের ভাব ফুটে ওঠে কি? কাস্টমাইজ কেক এখন শহরের চলতি ফ্যাশন৷ নানা আকার-আকৃতির কেক তৈরি হয় শহররে বিভিন্ন বেকারিতে৷ কিন্তু কেকের মধ্যেই আনন্দ থেকে মনখারাপ সব তুলে ধরা কি সম্ভব? আপাতভাবে অসম্ভব বলে মনে হলেও এ কাজই বাস্তব করে তুলেছেন শ্রেয়সী বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কেক নিয়ে তাঁর অভিনব পরীক্ষা-নীরিক্ষা গড়পড়তা কেকের ছবিটাই অনেকখানি বদলে দিয়েছে৷ সেটা কেমন! দেখে এলেন

স্বাদবদলের সঙ্গে মনের রদবদলও কেকের বুকে ফুটিয়ে তোলেন শ্রেয়সী৷ ‘‘আমার মনে হয়েছিল, আমাদের আনন্দ, দুঃখ, অভিমান হলে আমরা যেমন রবীন্দ্রনাথের গান-কবিতায় আশ্রয় নিই, সেরকমই আশ্রয় খুঁজে নিতে চেয়েছিলাম কেকের মধ্যে৷,’’ বলেন শ্রেয়সী৷ কিন্তু মনের ভাব প্রকাশের জায়গা হঠাৎ কেক-ই কেন? উত্তরে শ্রেয়সী জানান, ‘‘আসলে কেক এমনই একটা খাবার যেটা ছোট-বড়, সব বয়সের মানুষই cakeখেতে ভালোবাসেন৷ শুধু নিজেরা খেতে নন, প্রিয়জনকে উপহারও দিয়ে থাকেন৷ আমার কাছে এমন কয়েকজন ছেলে এসেছেন যাঁরা তাদের গার্লফ্রেন্ডের জন্য যে কেক অর্ডার করেছিলেন সেই কেকে তাদের গার্লফ্রেন্ডের মনখারাপের এক্সপ্রেশন তুলে ধরতে বলেছিলেন৷’’

কেকের দুনিয়ায় অবশ্য প্রথম থেকে ছিলেন না শ্রেয়সী৷ ছোট থেকেই ইচ্ছা ছিল হোটেল ম্যানেজমেন্টে কেরিয়ার গড়ার, কিন্তু রক্ষণশীল পরিবারের চাপে সে পথে পা বাড়াতে পারেননি তিনি৷ একপ্রকার বাধ্য হয়েই চাটার্ড অ্যাকাউটেন্সিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন, পরে সন্তানকে বড় করতে গিয়ে বছর চল্লিশের গোড়ায় দাঁড়িয়ে চাকরি ছাড়তে হয় তাঁকে৷ সেই সময়ই পুরনো স্বপ্ন সফল করতে নতুন পথে পা বাড়ান তিনি৷ হোটেল ম্যানেজমেন্টের কোর্স করে চারজনে মিলে তৈরি করেন বেকারি৷ কলকাতাবাসীর স্বাদ বদলের জন্য সেই বেকারিতে তৈরি হয়েছে একাধিক ইউরোপিয়ান ও ফ্রেঞ্চ ডেজার্ট৷ পরে তাঁর মনে হয়েছে, বেকারিকে অন্য একটা মাত্রা দিতে হবে৷ যেখানে থাকবে তাঁর সৃজনশীলতার ছোঁয়া৷dejani cake (1) copy সেই ভাবনা থেকেই কেক নিয়ে তাঁর যাবতীয় পরীক্ষা৷ যা এখন কলকাতাবাসীর পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতে৷

তবে শুধুমাত্র কাস্টমাইজ কেকই নয়, শ্রেয়সী বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত ধরে কলকাতায় ঢুকেছে ‘মেক মাই ওন কেক’-এর কনসেপ্ট৷ অনেকেই আছেন যাঁরা প্রিয়জনকে নিজের হাতে তৈরি কেক খাওয়াতে চান, কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে কেক তৈরির ঝুঁকি নিতে পারেন না৷ তাঁদের জন্য নিজের বেকারির দরজা খুলে দিয়েছেন শ্রেয়সী৷ যেখানে তাঁরা শেফের সহযোগিতা নিয়ে প্রিয়জনের কেক নিজেরা তৈরি করতে পারবেন৷

কেক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট-ই এখন একমাত্র নেশা শ্রেয়সীর৷ কেকের সুলুক-সন্ধান করতে দেশ-বিদেশের বেকারিগুলোতে এখন ঢুঁ মারছেন তিনি৷ চাইছেন কলকাতার মানুষের কাছে কেকের সংজ্ঞাটা বদলে দিতে৷