সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বে নেই, আছেন সৃষ্টি সুখের উল্লাসে

89

থিমের পুজোর বাজারে মহিলা থিম শিল্পীদের মধ্যে তিনিই সবথেকে জনপ্রিয়। অথচ তিনি নাকি কোনও পুরস্কারের আশা করেন না। তিনি এমনিই। দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের পুজো। থিমের হট্টগোলে ব্যস্ততমা শিল্পী পিয়ালী চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বললেন সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শিল্পের সঙ্গে যোগ ছোটবেলা থেকেই। সবসময়েই নতুন কিছু সৃষ্টির ইচ্ছা ছিল। প্রত্যেকটা দিন পিয়ালি ভেবেছেন নতুন কিছু করবেন। সেখান থেকেই শিল্প সৃষ্টির ইচ্ছে উড়ানে পা দেওয়া। ১৯৯৭ সালে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে সোজা চলে আসা রবীন্দ্রভারতীতে। সেখান থেকে ২০০৪ সালে স্নাতক হওয়ার পর কলাভবন থেকে আর্টের উপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পূর্ণ ২০০৬ সালে। কলাভবনে পড়াকালীনই এই প্যান্ডেল আর্টের মধ্যে হাতেখড়ি পিয়ালির।

আজ থেকে বছর দশেক আগে হলেও তখনি থিমের হাওয়া বইতে শুরু করেছে কলকাতার পুজোয়। কলাভবনের সিনিয়রদের সঙ্গে পুজোর মণ্ডপ গড়ার কাজে হাত মিলিয়েছিলেন তিনি। তখন প্যান্ডেলের চেয়ে মাতৃ মূর্তি গড়াটাই বেশি টানত তাঁকে। এই টানটা কখনও হারিয়ে ফেলেননি। সেটাই তাঁকে স্পেস্যালিস্ট বানিয়ে দেয়।

তবে পিয়ালি বললেই চলে আসে সৌমিকের নামও। ১৭ বছরের বিবাহিত জীবনের প্রেম শুরু হয়েছিল আর্ট কলেজে পড়ার সময়েই। একই জগতের মানুষের তাই স্ক্রিপ্টটা বড্ড চেনা ছিল প্রথম থেকেই। বুঝে নিতে সময় লাগেনি। ওঁর সঙ্গেই জীবনের গাঁটছড়া বাঁধা ২০০১ সালে।

বছর দুয়েকের সিনিয়রের সঙ্গে বিয়ের পর জীবনটা আরও বদলে যায় পিয়ালির। একসঙ্গে প্রবেশ কলকাতার অন্যতম নাটক দল নান্দীকারে। দুজনে একসঙ্গে সিনোগ্রাফারের কাজ করা শুরু। সেখান থেকেই পরিচয় শিবপ্রসাদের মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। পড়ে শিবুর প্রত্যেকটি ছবির সেট গড়ে উঠেছে দু’জনের হাতে। অ্যাকসিডেন্ট বাদে ইচ্ছে থেকে পোস্ত সব সেটেই রয়েছে পিয়ালিদের হাতের নিপুন ছোঁয়া।

ফেরা যাক, পূর্ব কথায়। আসলে পিয়ালি বললেই ওঁর লাইফ পার্টনারের কথা চলেই আসে। তাই একটু বলে দেওয়া। দেবি মূর্তি গড়ার প্রথম কাজ শুরু ২০১৪ সালে। অর্জুনপুর আমরা সবাই ক্লাব তখন নিজেদের বদলাতে চাইছে। বদলটা এল পিয়ালিদের হাত ধরেই। প্রথম বছরের চমকের পর দ্বিতীয় বছরেই মারাত্মক প্রচারে চলে আসে আমরা সবাই ক্লাব। সৌজন্যে পিয়ালির নিপুন হাতের ‘শিশু’ দুর্গা। পরের বছর সেলিমপুরেও বাজিমাত পিয়ালির। এই বছরে পিয়ালির হাতে গড়ে উঠছে মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার ক্লাব কালীঘাট মিল সংঘের মাতৃ মূর্তি। পিয়ালি, সেই একইরকম। নির্বিকার।

আসলে শিল্পকে খোঁজে পিয়ালি। সৃষ্টিকে ভালোবাসে। যা শুরু হয়েছিল সেই ছোটবেলাতেই। বলেই দেন পুরস্কারের আশা করবেন না। শান্তির আশা করুন। খুঁজে পাবেন আমার সৃষ্টিতে।