ডিভোর্সের পর খোরপোষ! কী বলছেন সেলেব্রিটিরা?

234

একজন বিবাহ বিচ্ছিন্না নারী যদি স্বনির্ভর হন তাহলে খোরপোষের আইনি সামানাধিকার কী তাদের ক্ষেত্রে সামান্য একজন উপার্জনহীন মহিলার মতোই হতে পারে? বিশেষ করে যদি সন্তান থাকে তাহলে? এই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে সমাজের স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিশিষ্টরা কী বলছেন? শুনলেন সোমদত্তা বসু

লোপামুদ্রা মিত্র (সঙ্গীত শিল্পী): আমার মনে হয় এভাবে খোরপোষ নেওয়াটা উচিত নয়, যেখানে সম্পর্কের অস্তিত্ব নেই, সেখানে টাকা পয়সার লেনদেনের সম্পর্ক বিশেষ করে স্ব-উপার্জন করা মেয়েদের ক্ষেত্রে সেটা খুবই অন্যায়। বিবাহ কোনও চুক্তি নয়, এটা মনের সঙ্গে মনের মিল। যারা স্ব-ইচ্ছায় সম্পর্ক ভাঙে, এই খোরপোষ নেওয়ার বিষয়টা তাদের কাছে আরও দৃষ্টিকটু। আমার তো মনে হয় এটা লোভী মেয়েদের কাজ।
আর সন্তান থাকলে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তারা কীভাবে যে মেনে নেয় সত্যি সেটা আমার পক্ষে ভাবাও সম্ভব নয়, আর সন্তানের কথা ভেবে যদি কিছু বলতে হয় তবে বলব এভাবে সরাসরি সন্তানের সামনে সম্পর্কের বিভ্রাট না দেখিয়ে নিজেদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা উচিত। তাহলে তাদের পক্ষে একটা সুস্থ জীবনে থাকা সম্ভব, যে কোনও সম্পর্কেই বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা জরুরি।

রাহুল চক্রবর্তী (অভিনেতা): আমার আর প্রিয়াঙ্কার ডিভোর্সটা খুবই মিউচুয়াল ছিল৷ আমাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনও কথাও হয়নি৷ আমরা দুজনেই এই শব্দটায় একদমই কমফোর্ট নই৷ তবে আমার মনে হয়, এটা সম্পূর্ণ দুটো ব্যক্তির আলাদা বিষয়৷ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের উপর এটা নির্ভর করে৷ তবে একজন চাকুরিজীবি মহিলা মেটারনিটি লিভ-এ একবছর বাড়িতে থাকেন এবং ডেলিভারির পর তিনি যদি চাকরিটা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন আর তারপর যদি কোনও কারণে তাঁর ডিভোর্স হয় তাহলে ওই মহিলার একশোভাগ অধিকার আছে খোরপোষ চাওয়ার৷

লকেট চট্ট্যোপাধ্যায় (অভিনেত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব): মেয়েদের খোরপোষ চেয়ে নিতে হবে এটা হবে কেন? আমার তো মনে হয় ছেলেদেরই উচিৎ নিজে থেকে মহিলাকে খোরপোষ দেওয়া। যদি স্ত্রী সন্তানের মা হয়, তো সেই সন্তানের দিকে তাকিয়ে তাকে মানুষ করার কথা ভেবে পুরুষের উচিৎ সেই খোরপোষটুকু দেওয়া। আর বিবাহ হচ্ছে একটা সামাজিক সংস্কার, নিয়ম, যেমন করে খুশি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেলেই হয় না।