রোগীর ভিড় সামলে ক্যানভাসে নারীসত্ত্বার কারিগর রিয়া

1517

একটা স্বপ্ন ছুঁতেই জীবনের প্রায় অর্ধেকের বেশি সময় পার হয়ে যায়৷ কিন্তু মাত্র ২৪ বছর বয়সেই দু-দুটো স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলেছেন এই তরুণী৷একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে তিনি যতটাই খ্যাতি পেয়েছেন, এই বয়সে একজন চিকিৎসক হিসেবে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে তাঁর৷এবারের নন্দিনীর সংখ্যায় ‘অনন্যা’ হাওড়ার রিয়া দাস৷ লিখলেন দেবযানী সরকার

রিয়া দাস৷ হাওড়ার মন্দিরতলার এই তরুণী আবারও প্রমাণ করল যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে৷ রিয়ার জীবনের অর্ধেকটা যদি হয় রঙ-তুলি আর ক্যানভাস তাহলে বাকিটা একজন চিকিৎসক হিসেবে রোগীদের পাশে থাকা৷

আড়াই বছর বয়স থেকে ছবি আঁকছেন রিয়া৷ মাত্র ১২ বছর বয়সে ছবি এঁকে জাতীয় সম্মান পেয়েছেন তিনি৷ শুধু একবার নয়, তিন-তিনবার জাতীয় সম্মান এসেছে তাঁর ঝুলিতে৷ ‘বালশ্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে তাঁকে৷এছাড়াও প্রায় ৩০০টির বেশি পুরস্কার পেয়েছেন রাজ্যস্তরে৷ বর্তমানে কলকাতার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয় রিয়ার ছবি৷ riya1রিয়ার বাবা-মা দুজনেই খুব ভাল ছবি আঁকেন৷ তাঁদের থেকেই ছবির আঁকার অনুপ্রেরণা পেয়েছে সে৷ তারপর থেকেই রিয়ার তুলির টানে ক্যানভাসে মিলেমিশে গিয়েছে নারী ও প্রকৃতি৷ সামনের জানুয়ারি মাসেই গগনেন্দ্র প্রদর্শন কেন্দ্রে তাঁর আরও একটা ছবির প্রদর্শনী রয়েছে৷

শিল্পী হিসেবে সারা দেশে সুনাম অর্জনের পরও রিয়া দৌড়েছে তাঁর দ্বিতীয় স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে৷ এখন সে মহেশ ভট্টাচার্য হোমিওপ্যাথি কলেজ ও হাসপাতালের একজন ডাক্তার৷

দুটো কাজ একসঙ্গে সামলান কিভাবে? রিয়ার উত্তর, আসলে দুটো বিষয়ই আমি খুব এনজয় করি৷ ছবি আঁকা ও রোগীদের দেখা, এই দুটো বিষয়ই আমার কাছে কাজ বলে মনে হয় না৷ তাছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, ছবি আঁকার সঙ্গে ডাক্তারির একটা যোগসূত্র রয়েছে৷ চিকিৎসার জন্য রোগের সব চরিত্র বুঝতে হয় তেমনই ক্যানভাসের কোনও একটি ছবি ফুটিয়ে তুলতে ছবির চরিত্রও বুঝতে হয়৷

ভবিষ্যতে দুটো বিষয়কেই সমান্তরাল ভাবেই এগিয়ে নিয়ে যেতে চান রিয়া৷ তাঁর বিশ্বাস, শিল্পীসত্ত্বা ও চিকিৎসকসত্ত্বা কোনটাই একে ওপরের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না৷রিয়ার স্বপ্নউড়ান এখনও আরও উপরদিকে ওঠার অপেক্ষায়৷