বিয়ের পর চাকরিতে বাধা? কী বলছেন বিশিষ্টরা

145

যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে-প্রবাদ বাক্যটা তো আর এমনি এমনি চালু হয়নি৷কিন্তু অনেক শ্বশুরবাড়িই একথা মানতে চায় না৷ বিয়ের পর এখনও অনেক স্বাবলম্বী মেয়ে বাধ্য হয় চাকরি ছাড়তে৷এবিষয়ে কী বলছেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা? শুনলেন দেবযানী সরকার

লীনা গঙ্গোপাধ্যায়(চেয়ারপার্সন, রাজ্য মহিলা কমিশন): বিয়ের পরই আমার পড়াশোনা, কেরিয়ার যা কিছু হয়েছে৷ সবেতেই যে শ্বশুরবাড়ির সমর্থন পেয়েছি তা একেবারেই নয়৷ তাই বুঝতেই পারছেন সবকিছু মসৃণভাবে হয়নি৷কিন্তু আমার মধ্যে একটা অদম্য জেদ ছিল৷ আমি মনে করি কারোর যদি কিছু একটা করার তাগিদ থাকে তাহলে পৃথিবীর কোনও বাধাই তাকে আটকাতে পারবে না৷ নারী অনেকক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হতে পারেনি বলে ক্ষমতা পুরুষতন্ত্রের কাছে গেছে এবং ক্ষমতায়ন হয়েছে৷ তাই আমার মনে হয়, কোনও মেয়ে চাকরি, ব্যবসা বা অন্য কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিয়ের পর সেটা ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না৷

রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়(অভিনেত্রী): আগে দেখতে হবে আমি কি চাই! যদি মনে হয় আমি শুধু বিয়ের পর সংসারটাই করব তাহলে চাকরি ছাড়তে হবে৷ আর যদি মনে হয় চাকরী, সংসার দুটোই ব্যলান্স করতে পারব তাহলে তো ঠিকই আছে৷ বিয়ের আগের জীবন আর পরের জীবনের মধ্যে তো একটু তফাৎ হয়৷ দায়িত্ব বাড়ে৷বউমা চাকরি করবে কি করবে না সেটা শ্বশুরবাড়ির লোকেদের চাপিয়ে দেওয়াটা আমি কখনই সমর্থন করি না৷কিন্তু যদি কোনও মেয়ে স্বেচ্ছায় চাকরি সেটা আলাদা ব্যাপার৷ আমি নিজে ঠিক করেছিলাম আমি কখন কাজ করব বা করব না৷ এটা সম্পূর্ণ পার্সন টু পার্সন ডিপেন্ড করে৷

মীরাতুন নাহার(সমাজকর্মী): এখনও আমাদের দেশে ছেলে এবং মেয়ে, উভয়ের মধ্যেই কাজের বিভাজন করে রেখেছি৷ ছেলেরা বাইরে কাজ করবে আর মেয়েরা ঘর-গেরস্থালীর কাজ করবে৷সে যতই লেখাপড়া করুক আর সামর্থ্যের পরিচয় দিক৷এখনও এটা সমাজব্যবস্থায় ক্রিয়াশীল রয়েছে৷ মেয়েদের মধ্যেও এই ব্যাপারটা রয়ে গেছে যে ঘরের কাজটা করে যদি বাইরের কাজটা করতে পারি তাহলে করব নাহলে করব না৷ বিয়ের পর বাচ্চার দেখভাল করাটা শুধুই মেয়েদের কাজ৷ পুরুষরা এই কাজ করতে পারেই না৷একটা বাচ্চা হলে মেয়ের মায়েরা, শ্বাশুড়িরাই বাচ্চার দোহাই দিয়ে বলে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য৷ আমার মতে, বিদেশে যেমন শিশুদের দেখভাল করার জন্য পার্ট টাইম কাউকে রাখা হয় এখানেও এরকম ব্যবস্থা থাকলে ভাল৷রাষ্ট্রের এই বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া উচিত৷