এই রাত তোমার আমার…

823

সমাজের একটা বদ্ধমূল ধারণা আছে৷ ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড মানে খারাপ৷ কেন খারাপ? না একরাতের জন্য শরীরে শরীরে মিলন, তারপর টা টা বাই বাই৷লিখলেন বিশাখা পাল৷

“তুমি যাকে ভালোবাসো, স্নানের ঘরে বাষ্পে ভাসো”, তাকেই যদি একদিনের জন্য হাতের কাছে পেয়ে যাও তাহলে কী করবে? অনেকটা সেই ছোটোবেলায় পড়া “আমায় যদি হঠাৎ কোনও ছলে, কেউ করে দেয় আজকে রাতের রাজা”-র মতো হয়ে যাবে না? একবারও কি মনে হবে না সেই মানুষটার সঙ্গে কাছাকাছি খানিকটা সময় কাটাই? মনে হবে না বিছানায় শুয়ে আলতো ছুঁয়ে কাটিয়ে দিই সারাটা রাত?

হবে না বললে ডাহা মিথ্যে কথা বলা হবে৷ মনের কোনও গোপন গভীর কোণায় এই অভিপ্রায় দানা বাঁধবেই৷ কিন্তু তৎক্ষনাৎ মনে পড়ে যাবে বাবা মায়ের চোখ রাঙানি৷ বন্ধুরা অবশ্য সেদিক দিয়ে যাবে না৷ শুনতে পেলে উলটে হেসে উঠবে৷ বলবে, “কী করল? কী হল সারা রাত? দুষ্টুমি করলি খুব?” কিন্তু তাতেও তো জ্বালা৷ লজ্জায় লাল হওয়া তো দূরে থাক৷ এমন শুনলে পালানোর পথ থাকবে না৷ তাই মনের সেই সুপ্ত বাসনাকে সুপ্ত রাখাই ভালো৷ তাই না? কিন্তু যদি সেই বাসনা বাঁধ না মানে? ঘরের চাবি ভেঙে নিয়ে যায় কোনও স্বপ্নের দেশে? যদি পোড়া মন একবার বলে, “একটু পথ তুমি এস…? এক রাত না হয় তোমার আর আমারই হোক?”

one night stand 1

শুনতে মন্দ লাগে না৷ কিন্তু এর যে পোশাকি নাম আছে, তা শুনলেই তো মুশকিল৷ এত ভালো একটা পরিস্থিতি, অথচ তার গালভরা নাম কিনা ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড! নাম শুনেই অনেকে দৌড়ে পালাবে৷ অনেকে নাক সিঁটকাবে৷ অনেকে বলবেন “ছিঃ৷” কিন্তু একরাতের সেই খেলা যারা খেলেছে, তারা জানে৷ কী তার মাধুর্য৷ শুধু মাধুর্য নয়৷ দরকারিও৷

বিতর্কটা অনেকদিনের৷ “রাত গয়ি বাত গয়ি”-র মতো ব্যাপার কেই বা পছন্দ করে? বিশেষত ভারতের মতো দেশে? কিন্তু আজকের প্রজন্ম তো এটাই চায়৷ “হোনা হ্যায় জো, হো যানে দো৷” তারপর? পরেরটা পরে ভাবা যাবে৷ অনেকে এর রাতের ব্যাপারকে এক রাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে৷ আবার এও দেখা গেছে এক রাত কাটানোর পর অনেকে রূপ সাগরে মনের মানুষ খুঁজে পেয়ে যায়৷ তবে এমন ঘটনা লাখে একটাই ঘটে৷ যেমন ঘটেছে কৃষ্ণা অভিষেক আর কাশ্মীরা শাহর ক্ষেত্রে৷

সবাই এখন স্বাধীন৷ তার থেকেও বেশি নিজেকে নিয়ে স্বচ্ছ্বন্দ্য৷ নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পছন্দ করে৷ এই সময় যদি কান ধরে কেউ এটা উচিত, এটা অনুচিত বোঝাতে যায়, তাহলে কি রাগটাই না হয়৷ তাই কেউ এক রাতের জন্য চেনা বা অচেনা কারোর সঙ্গে বিছানা শেয়ার করবে কিনা সেটা একান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার৷ তবে যাকে মনে মনে পছন্দ সে যদি সামনে এসে দাঁড়ায়, যদি বলে “তোমায় নিয়ে গল্প হোক”, তাহলে তো আর “মন মানে না৷” আর মন যদি না মানে, তাকে মানানোর দরকার কি? একটা রাত না হয় “তোমাকে দিলাম”৷

সমাজের একটা বদ্ধমূল ধারণা আছে৷ ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড মানে খারাপ৷ কেন খারাপ? না একরাতের জন্য শরীরে শরীরে মিলন, তারপর টা টা বাই বাই৷ এসব কি অলক্ষুণে কথা? কিন্তু এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এই অদেখা সমাজের রক্তিম চোখের কাছে মাথা নোয়ানো কি জরুরি? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়৷ তবে থেমে যাওয়াই ভালো৷ আর যদি না হয়, তবে ওই, দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গের ডায়ালগ, “যা সিমরন যা, জি লে আপনি জিন্দেগি৷” শুধু সিমরনের জায়গায় এডিট করে নিজের নামটা বসিয়ে দিতে হবে৷one night stand 3

এখন কথা হচ্ছে পার্টনার নিয়ে৷ ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড অনেকভাবে হতে পারে৷ তবে এর বেশিরভাগটাই হয় পার্টি থেকে৷ গলা অবধি সুরাপান করে “তারে আমার ভালো লেগেছে” হয়ে যায়৷ অতএব পার্টি থেকে সোজা বিছানায়৷ তারপর সকালে উঠে, “কে তুমি?” এমন ছবি বলিউডের দৌলতে কারোর অজানা নয়৷ তবে এমটা যে বাস্তবে হয় না, তা নয়৷ বলা যায় এর সংখ্যাটাই বেশি৷ কিন্তু এর ফল যে খারাপ হয়, তা নয় একেবারই৷

ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড মানেই শুধু- এস, বসো, আদরে ডুব দাও আর উঠে যাও নয়৷ জীবনের ওই একটা রাত অনেক কিছু শেখায়৷ সবচেয়ে বেশি শেখা যায় নিজের সম্পর্কে৷ আমদের মুখে অনেক বড় বড় বাক্য দিনরাত ঘোরাফেরা করে৷ কিন্তু আমরা নিজেদের কি সত্যিই চিনি? অনেক সময় দেখা যায়, ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের পর অনেকে বুঝতে পারে, তার মধ্যে কী কী কমতি আছে৷ কেউ ফোরপ্লে ভালোবাসে৷ কেউ আবার শুধু যৌনতা৷ কেউ ওয়াইল্ড সেক্স পছন্দ করে, কারোর পছন্দ শান্ত আদর৷ এসব গুপ্ত রহস্য ফাঁস হয় এক রাতের খেলায়৷ নিজেই অনেকসময় জানা যায় না নিজে কী চাই৷ সেই চাওয়া জানার জন্য ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের জুড়ি নেই৷

এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিয়ের পর এসব জানলে ক্ষতি কি? কিছুই নেই৷ তবে তখন যদি দেখা যায় একজন ওয়াইল্ড সেক্স পছন্দ করে আর অন্যজন তা দুচক্ষে দেখতে পারে না, তাহলেই তো গন্ডগোল৷ সুহাগ রাত থেকেই দূরত্ব বাড়তে থাকবে৷ তার চেয়ে, যদি কেউ মনে করে, যার সঙ্গে সারা জীবন কাটাব, তাকে একবার দেখে নেব না? তাহলে তাকে কি দোষ দেওয়া যায়? সম্ভবত না৷ এক্ষেত্রে হয়তো বন্ধুরা পাশে থাকবে৷ কিন্তু পরিবার হয়তো মত দেবে না৷ কুছ পরোয়া নেহি৷ নিজের কাছে সৎ থাকলেই হল৷

আর নিজে নিজের মতো থাকলে তো কথাই নেই৷ যাই হয়ে যাক, জীবনটা তো একার৷ তাই কোথাও ঘুরতে গিয়ে যদি হঠাৎ কাউকে মনে ধরে যায়, তাহলে একটা রাত কাটিয়ে দেওয়াই যায়৷ তবে প্রোটেকশন কিন্তু মাস্ট৷

এবার কিছু দুষ্টু কথায় আসা যাক৷ কথায় বলে, Practice makes perfect. ছেলে ও মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই একথা প্রযোজ্য৷ একের পর এক ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড কিন্তু পারফর্ম্যান্সে অনেক উন্নতি ঘটায়৷ আর অনুভূতির স্বাদও কিন্তু অনেকে ভুলতে পারে না৷ তবে গল্প এখানেই শেষ নয়৷ মেডিক্যাল সায়েন্স বলছে, রোজ বিছানায় সোহাগ শরীর সুস্থ রাখে৷ কর্মক্ষমতা বাড়ে৷ আর অতি অবশ্যই মন ভালো থাকে৷ সেক্স শরীরের ক্যালোরি ঝরায়৷ হরমোনের ব্যালেন্স ঠিক রাখে৷

ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড নেহাতই ছেলের হাতের মোয়া নয়৷ রাত শেষে জেগে উঠে যখন কেউ বলে “আমাকে আমার মতো থাকতে দাও”, উলটো দিকের মানুষটা মাঝেমধ্যেই তা মেনে নিতে পারে না৷ সমস্যা তৈরি হতে পারে তখনই৷ সেই পরিস্থিতি সামলাতে হবে মাথা ঠান্ডা রেখে৷ আর যদি এই সমস্যাটা সামলে নেওয়া যায়, তবে তো হতেই পারে “এই রাত তোমার আমার…. শুধু দুজনে….”৷