দুর্বার ছন্দে যৌনকর্মীদের জীবন বদলাতে চান কাজল

75
ছবি: শশী ঘোষ

 ছোট বয়সেই বিয়ে৷ ইচ্ছে ছিল আর পাঁচটা মেয়ের মতোই স্বামী-সন্তান নিয়ে গুছিয়ে সংসার করার৷ ভাগ্যের লিখনে তা ছিল না৷ তাই মাত্র ১৭ বছর বয়সে বেছে নিতে হয়েছিল যৌনপেশাকে৷ এখন তিনিই যৌমকর্মীদের জন্য লড়াই করা দুর্বারের সাধারণ সম্পাদক৷ এবারের অনন্যা কাজল বোস৷ তাঁর জীবনের অজানা গল্প তুলে ধরলেন দেবযানী সরকার

চলতি বছর লড়াই করে নিজেদের দুর্গাপুজোর অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছিলেন দুর্বারের মহিলারা৷ এই লড়াইয়ের অন্যতম নেত্রী ছিলেন কাজল বোস৷ তবে এই নেত্রীর অতীতও গল্পের মতো৷ তাঁর জীবনেও রয়েছে চরম উত্থান-পতন৷

মুর্শিদাবাদের মেয়ে কাজল৷ মাত্র ১৩ বছর বয়সে এলাকারই একজনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল৷ বছর দুয়েকের মধ্যেই এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন কাজল৷ স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে যখন জমিয়ে সংসারটা করবেন তখনই কাজলের ভাগ্যে ঘনিয়ে এল কালো মেঘ৷ হঠাৎই স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ৷ ছোট্ট বয়সে মেয়েকে কিভাবে মানুষ করবেন সেটা ভেবেই দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি৷

উপায় না দেখে প্রতিবেশী মহিলার সঙ্গে মাত্র ১৭ বছর বয়সে যৌনপল্লীতে প্রথম পা দিয়েছিলেন কাজল৷ শুরু হল তাঁর যৌনকর্মী হিসেবে নতুন জীবন৷Kajol sonagachi 2

সোনাগাছিতে আসার মাস ছয়েক পর তিনি যুক্ত হন দুর্বার সংগঠনের সঙ্গে৷ এরপর অনেক বড় বড় দায়িত্ব সামলেছেন৷ প্রথমে দুর্বারের হয়ে জনসংযোগের দায়িত্বে ছিলেন কাজল৷ ১৯৯৯ সালে দুর্বারের সুপারভাইজার হন৷ দুবছর সেই পদ সামলানোর পর ২০০১ সালে উষা কো-অপারেটিভের প্রেসিডেন্ট হন তিনি৷ এবছর দুর্বারের সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন কাজল৷

দুর্বারে যোগ দেওয়ার পর নিরক্ষর কাজল পড়াশোনা শিখেছেন৷ কাজের সূত্রে লন্ডন, সাউথ আফ্রিকা, বাংলাদেশ সহ বহু দেশ-বিদেশ ঘুরেছেন৷ সেখানে তাঁর বক্তৃতা শুনেছে বহু মানুষ৷

পেশার পাশাপাশি মেয়েকেও মানুষ করেছেন তিনি৷ যৌনকর্মীর কাজ নিয়ে কোনও খেদ নেই তাঁর৷ কাজলের কথায়, দুর্বার হওয়ার আগে সবাই আমরা খুব কষ্টে ছিলাম৷ তখন কোথায় যেতে পারতাম না৷ কারোর সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারতাম না৷ কিন্তু কোনওদিন পেশা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবিনি৷ আমার কাছে এটা অন্য পেশার মতোই৷আমি আমার পেশাকে সম্মান করি৷

এখন কাজলের বয়স ৩৮৷ মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু এখন দুর্বারই তাঁর সংসার৷ কাজলের কথায়, যতদিন বাঁচব ততদিন দুর্বারের সঙ্গেই থাকব৷