ঘনত্ব থেকে রং, অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে পিরিয়ড সমস্যা

63

মহিলাদের জীবনে ঋতুচক্র অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়৷ মাসে মাসে মাসিক হলে চিন্তা নেই৷ কিন্তু না হলেই বিপদ৷ আবার হলেও যন্ত্রণায় প্রাণ ওষ্ঠাগত৷ তখন মনে চিন্তা আসেই, কেন এরকম হয়? প্রতিমাসে রক্ত ছাড়া আর এমন কী বের হয় যে এত কষ্ট?

এর পিছনে গূঢ় কারণ রয়েছে৷ প্রথমত মেনস্ট্রুয়াল ব্লাড আমাদের দেহের সাধারণ রক্তের মতো নয়৷ মেনস্ট্রুয়াল ব্লাড জমাট বাঁধে না৷ আর যদি জমাট বেঁধে যায়, তা দেহ থেকে বের হতে পারে না৷ তখনই ব্যথা হয়৷ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷

এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, দেহের ধমনি বা শিরায় যে রক্ত প্রবাহিত হয়, মেনস্ট্রুয়াল ব্লাডের সঙ্গে কি তার আদৌ কোনও পার্থক্য আছে? থাকলে কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও উপাদানের সঙ্গে মেনস্ট্রুয়াল ব্লাডের তুলনা করা যায় না৷ এর ঘনত্ব আমাদের দেহে প্রবাহিত হওয়া রক্তের থেকে আলাদা৷ এটা কোনও কুল-এডের মতো পাতলা নয় বা কেচআপের মতো ভারী নয়৷ পিরিয়ডিক ব্লাড এর মাঝামাঝি ঘনত্বের৷period 2

হেভি পিরিয়ডের সময় প্রতিটি মহিলা জমাট বাঁধা রক্ত বা ক্লটের উপস্থিতি লক্ষ্য করে৷ সেটি কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়৷ যদি আকারে ছোটো ক্লট হয়, তাহলে কোনও সমস্যা হয় না৷ কিন্তু যদি ক্লটের আকার বড় হয়, তাহলেই মুশকিল৷ এমন ক্লট যদি দেহ থেকে নির্গত হয়, তাহলে বুঝতে হবে দেহে কোনও হরমোনের তারতম্য ঘটেছে৷ হতে পারে সেটি দেহের কোনও সমস্যা৷ আবার জরায়ুতে কোনও টিউমার বা সিস্ট উৎপন্ন হতে পারে৷ একে বলে ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড৷ একটি সমীক্ষা বলছে, ৫০ বছর হওয়ার আগে ৭০ শতাংশ মহিলার ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড হয়৷ তবে এদের মধ্যে বেশিরভাগের এই কারণে কোনও সমস্যা সৃষ্টি হয় না৷ বাকিদের গর্ভধারণের সময় সমস্যা হয় বা পিরিয়ডের সময় অসহ্য ব্যাথা হয়৷ এক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিত৷

কারোর কারোর আবার খুব কম পিরিয়ড হয়৷ রক্ত হয় পাতলা৷ জলের মতো৷ এটিও সমস্যার কারণ হতে পারে৷ যদি রক্ত পাতলা হয় বা দূষিত রক্তের মতো রং হয়, তাহলে জরায়ুতে টিউমারের আশঙ্কা থাকে৷ টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ফ্যালপিয়ান টিউবেও৷ তবে পরীক্ষা না করে কোনও কিছুই বলা সম্ভব নয়৷

পিরিয়ডের সময় ফ্লো যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়, তাহলেও হতে পারে সমস্যা৷ হতে পারে এর সঙ্গে সার্ভিকাল মিউকাস মিশে আছে৷ জয়ায়ু নালীতে মিউকাসের অনেক কোষ থাকে৷ শুক্রাণুকে সরাসরি ডিম্বানুতে যেতে বাধা দেয় এই মিউকাস৷ তাই পিরিয়ডিক ব্লাডের সঙ্গে মিউকাস মিশে যাওয়া চিন্তার বিষয় নয়৷ তবে তা সত্ত্বেও একবার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া দরকার৷