জন্ম হোক, কিন্তু যখন তখন নয়

437

সন্তানের জন্ম দেওয়ার থেকে সুখ বোধহয়েআর কোনও কিছুতেই পায় না মেয়েরা। কিন্তু, তার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট সময় ও বয়স। সঠিক সময়ে সন্তানধারন না করলে মা ও সন্তানের সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। থাকে আরও নানা বিপদের সম্ভাবনা। তাই জন্ম নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখনও অনেক মেয়ের কাছেই অজানা জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো। জেনে নিন সেরকমই কিছু পদ্ধতি।girl happy

 

সেফ পিরিয়ডস: মহিলাদের মাসিকের সাতদিন পরে ও সাতদিন আগে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে৷ এমনই ধারণা প্রচলিত রয়েছে৷ তবে এটি অনুমান মাত্র৷কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই৷

ওরাল পিলস: পৃথিবী জুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হল ওরাল পিল৷ বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন মানের এবং বিভিন্ন দামের ওরাল পিলস বাজারে পাওয় যায়৷ যেহেতু বিভিন্ন ওরাল পিসের কম্পোজিশন আলাদা হয় তাই ডাক্তারের পরামর্য়স ছাড়া ওরাল পিলস খাওয়া একেবারেই উচিত নয়৷ ওরাল পিলস সাধারনত প্রায় দু বছর একটানা খাওয়া যায়৷ তার পর কয়েকমাস বন্ধ রেখে আবার খাওয়া উচিত৷ কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মহিলারা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর ওরাল পিলস খেয়ে যাচ্ছেন৷ এতে ভবিষ্যতে বিভিন্নরকমের সমস্যা দেখা  দিতে পারে৷ এতে  মোটা হয়ে যাওয়া বা রোগা হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে৷ এননকি মানসিক রোগও দেখা দিতে পারে৷ যাদের জন্ডিস, ক্যানসার, হার্টের অসুখ রয়েছে তাদের কখনই ওরাল পিলস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া উচিত নয়৷girl 2

কন্ডোম: কন্ডোম সাধারনত দু ধরণের হয়৷ পুরুষদের জন্য মেল কন্ডোম ও মহিলাদের জন্য ফিমেল কন্ডোম৷ কন্ডোমের বহুল প্রচলিত ব্যবহার থাকলেও এটি ব্যবহার করে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করল মহিলাদের গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা ভালরকমই থেকে যায়৷ তবে মেল ও ফিমেল কন্ডোম একসঙ্গে ব্যবহার করলে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম থাকে৷ ফিমেল কন্ডোম যৌন মিল করার এক ঘন্টা আগে ভ্যাজাইনাতে ঢুকিয়ে রাখতে হয়৷ এর পরবর্তী একঘন্টা ফিমেল কন্ডোম কার্যকরী থাকে৷ কন্ডোম ব্যবহারের ফলে সংক্রমিত রোগ যেমন এইচআইভি’র হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়৷ ফলে অধিকাংশ চিকিৎসক সেফ সেক্সের ক্ষেত্রে কন্ডোম ব্যবহারের পরামর্শ দেন৷

কপার টি: কপার টি জন্মনিয়ন্ত্রণের একটা নতুন পদ্ধতি৷ বিদেশে এর প্রচলন অনেক পুরোনো হলেও আমাদের দেশে এর ব্যবহার খুব বেশি দেখা যায় না৷ এটি ইংরেজি অক্ষর Tএর মত দেখতে হয়৷ এটি বিশেষ পদ্ধতিতে শুক্রাণুকে নষ্ট করে দেয়৷ এপার টি’র কার্যকারিতা সাধারণত পাঁচ বচর অবধি থাকে৷ যে সমস্ত মহিলা খুব কঠিন জীবন যাপন করেন অথবা যাদের ওরাল পিলস দেওয়া যাবে না তাদের ক্ষেত্রে কপার টি খুবই প্রযোজ্য৷copper t

গর্ভপাত: গর্ভপাতদু ধরণের হয়৷ সার্জিক্যাল এমটিপি ও মেডিক্যাল এমটিপি৷ আমাদের দেশে সার্জিক্যাল গর্ভপাতের ব্যবহার বেশি হলেও এতে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ যেমন, রক্তপাত হতে পারে, অসহ্য যন্ত্রণা হতে পারে৷ এছাড়াও একাধিকবার গর্ভপাত করালে বন্ধ্যাত্ব আসতে পারে৷ তাছাড়াও যাদের ব্লাড সুগার, হাই ব্লাড প্রেসার বা হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে তাদের সার্জিক্যাল গর্ভপাত করান উচিত নয়৷ কেই কারণে আজকাল মেডিক্যাল এমটিপির চাহিদা বেড়েছে এই পদ্ধতিতে ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত করান হয়৷ তবে এ ক্ষেত্রে ফেলিওর রেট বেশি থাকে৷

লাইগেশন ও ভিসেক্টমি: আমাদের দেশে সাধারনত দুটি সন্তান হওয়ার পর লাইগেশন বা ভিসেক্টমির পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে৷লাইগেশন ও মহিলাদের জন্য ও ভিসেক্টমি পুরুষের জন্য৷ এই দুটি পদ্ধতিই যেহেতু স্থায়ী সেহেতু  অন্তটি দুটি সন্তান না হওয়া পর্যন্ত এটি প্রযোগ না করাই ভালো৷ তবে এই পদ্ধতিতে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না৷

এমার্জেন্সি পিলস: ইন্টারকোর্স করার বাহাত্তর ঘন্টার মধে এমার্জেন্সি পিলস খেলে গর্ভধারণ এড়ানো সম্ভব৷ যwomanদিও এক্ষত্রে চিকিৎসকের ভূমিকা তেমন নেই৷ টেলিভিশন বা পত্র পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখেই বেশিরভাগ মহিলা এইধরণের পিল ব্যবহার করেন৷ তবে এমার্জেন্সি পিলসের সাক্সেস রেট খুব বেশি নয়৷ ইন্টারকোর্স করার ৭২ ঘন্টার মধ্যে এমার্জেন্সি পিলস খেয়েও গর্ভবতী হয়ে পড়েছেন এমন ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়৷