রাত্তিতের রূপটান

446

সারাদিনের ধোঁয়া, ধুলো, পলিউশন, কড়া রোদ, কেমিক্যালযুক্ত কসমেটিক্সের প্রভাবে ত্বক ও চুলের বেহাল দশা। তার ওপর নিত্যনৈমিত্তিক স্ট্রেসের ভূমিকাও তো কম নয়। সবকিছুর মোকাবিলায় দিনের শেষে প্রয়োজন ত্বক ও চুলের বিশেষ পরিচর্যার। তাই আগের সংখ্যায় কথা হয়েছিল রাতের স্কিন কেয়ার নিয়ে। তবে রূপচর্চা বলতে শুধু তো মুখ নয়। তাই আজ রইল বালি রূপচর্চার কথা

চোখের যত্নeye

রাতে শোওয়ার আগে হাতে কয়েকফোঁটা আমন্ড অয়েল নিয়ে চোখের চারপাশে লাগিয়ে হালকা হাতে একমিনিট করে মাসাজ করুন। নিয়মিত করলে একদিকে যেমন চোখের চারপাশের চামড়া ভাল থাকবে। তেমনই ডার্কসার্কেলের সমস্যাও কমবে। ইচ্ছে হলে আইক্রিমও ব্যবহার করতে পারেন।

 

ঠোঁটের যত্ন

রোজ রাতে শুতে যাওয়ার আগেঠোঁটে কোনও ময়শ্চারাইজ়ার বা লিপবাম লাগিয়ে নিন। এবার ঠোঁট দু’টো ১৫-২০ সেকেন্ড সামান্য চেপে ধরুন। এতে ঠোঁটের ভেতরে ভাল করে ময়শ্চারাইজ়ার যাবে, ঠোঁট কোমল, মসৃণ ও মোলায়েম হবে। গোলাপ জল ও গ্লিসারিন একসঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে নিতে পারেন। উপকার পাবেন। দুধের সরও লাগিয়ে নিতে পারেন।

পায়ের যত্ন

রাতে শুতে যাওয়ার আগে ঈষদুষ্ণ জলে ১৫- ২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। গরম জলের সংস্পর্শে পায়ে জমে থাকা ধুলোময়লা সহজে পরিষ্কার হয়ে যাবে। পা পরিষ্কার করার পর ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ ফুট লোশন বা ভাল ময়শ্চারাইজ়ার ক্রিম দিয়ে পা, গোড়ালি, আঙুলের ফাঁকে, পায়ের পাতার নীচের অংশে হালকা হাতে সার্কুলার মুভমেন্টে কিছুক্ষণ মাসাজ করুন। ত্বক নরম হবে। শুতে যাওয়ার আগে ভিজে তুলো দিয়ে অতিরিক্ত ক্রিম মুছে ফেলুন। যদি পা ফাটার সমস্যা থাকে তাহলে ক্রিমের বদলে পেট্রোলিয়াম জেলির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে পা ফাটার ওপর লাগাতে পারেন। সারাবছর বিশেষ করে শীতকালে প্রতিদিন এইভাবে গোড়ালির যত্ন নিতে পারলে ভাল হয়।

hariচুলের যত্ন

ঘুমোতে যাওয়ার আগে চুল ভাল করে আঁচড়ে নিন। বড় দাঁড়ার চিরুনি ব্যবহার করুন। সবচেয়ে ভাল হয় যদি কাঠের চিরুনি ব্যবহার করতে পারেন। আস্তে আস্তে চুলের জট ছাড়িয়ে নিন। বড় চুল হলে পনিটেল বা বিনুনি বেঁধে নিন। চুলে জট পড়বে না। তবে খুব টেনে চুল বাঁধবেন না। সপ্তাহে এক-দু’দিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে হেয়ার অয়েল সামান্য গরম করে চুল ও স্ক্যাল্পে লাগিয়ে সারারাত রাখতে পারেন। হালকা হাতে স্ক্যাল্প ও চুলের গোড়া কিছুক্ষণ মাসাজ করুন। সহজে চুলের গোড়ায় ঢুকবে। ঘুমও ভাল হবে। তবে যাঁদের সহজে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ধাত আছে তাঁরা কিন্তু সারারাত চুলে তেল লাগিয়ে রাখবেন না। বালিশে ঘষা লেগে অনেকসময় চুল ভেঙে যায়, চুল পড়তে শুরু করে। চুল যাতে এলোমেলো, অবিন্যস্ত না হয় সেজন্যে স্যাটিনের তৈরি বালিশের কাভার ব্যবহার করুন। নরম ও মসৃণ হওয়ায় সহজে ঘষা লেগে চুল ভেঙ্গে যাবে না।