আর্থিক সমস্যা নেই, কিন্তু বাইরের জগতে লড়াই আছে

507

জলপাইগুড়ির মুজনাই চা বাগানে তাঁর জন্ম৷ সংসারের মানে বোঝার আগেই বিয়ে যায়৷ কিন্তু লেখাপড়ায় ছেঁদ পরতে দেননি তিনি৷ বিয়ের পর উচ্চ শিক্ষা, দুই সন্তানকে মানুষ করেও নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন তিনি৷ রিমি দে-র লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরলেন দেবযানী সরকার

১৬ বছর বয়সেই বিয়ে হয় রিমি দেবীর৷ স্বামীর রেলে চাকরি৷ বিয়ের পর বিএসসি পাশ করেন তিনি৷ অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলা এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও স্নাতক ডিগ্রি করেছেন তিনি৷ তারপর উচ্চশিক্ষার ইচ্ছে থাকলেও সাময়িকভাবে তাতে বাধা দেয় প্রেগন্যান্সি৷ কিন্তু সেই ইচ্ছে পুরোপুরি দমতে দেননি তিনি৷ ছেলের জন্মের পর এম এ পাশ করেন তিনি৷
পড়াশোনার গন্ডি পেরোনোর পর পেশার জগতে প্রবেশ করেন রিমি দেবী৷ ছেলেকে নাটক শেখানোর পাশাপাশি নিজেও নাটক শেখেন তিনি৷ অল ইন্ডিয়া রেডিও, দূরদর্শন জলপাইগুড়িতে উপস্থাপনার কাজ শুরু করেন৷ রেডিওতেও নাটক করেছেন তিনি৷
ছোট থেকেই লেখালিখি করতে ভালোবাসতেন৷ রিমি দেবীর কথায়, সংসার সামলানোর পর আমার অক্সিজেন নেওয়ার জায়গা ছিল লেখালিখি৷ এখন শিলিগুড়িতে থাকেন রিমি দেবী৷ একটা কবিতার পত্রিকা সম্পাদনা করেন৷ নাম: পদ্য। রিমি দেবীর কথায়, এই কাগজ করতে গিয়ে প্রচুর স্ট্রাগল করতে হয়েছে৷ জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ বাড়িতে আর্থিক কোনও সমস্যা না থাকলেও বাইরের জগতে লড়াইটা কী তা এই কদিনে বুঝে গেছি৷
নিজের বাড়িতে গড়ে তুলেছেন একটা লাইব্রেরি৷ সে লাইব্রেরি ঠাসা রয়েছে পত্রিকা আর লিটল ম্যাগাজিন৷ উত্তরবঙ্গ তো বটেই দক্ষিণবঙ্গের প্রচুর কবি-সাহিত্যিকরা মিলিত হন সেখানে৷
রিমি দেবীর এক ছেলে ও এক মেয়ে৷ ছেলে এখন ডাক্তার আর মেয়ে কর্পোরেট লইয়ার৷ সেভাবে বলতে গেলে রিমি দেবী এখন হাত-পা ঝাড়া৷ কিন্তু রিমি দেবী মনে করেন তাঁর জীবনে অবসর বলে কিছু নেই৷ পদ্যকে (রিমি দেবীর কবিতার পত্রিকার নাম) বড় করাই তাঁর লক্ষ্য৷