বাবাকে হেল্প করার জন্য অফিস, ক্লাবেও ডান্স করেছি

9205

ছোট এবং বড় পর্দার চেনা মুখ৷ ঐশ্বর্য রাইয়ের সঙ্গে ক্রিন শেয়ার করেছেন৷ খুব কম বয়সেই পেয়েছেন আকাদেমি পুরস্কার৷ জন্মভূমি থেকে চোখের বালি, তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ অনেকেই৷ এই সফল অভিনেত্রী একজন সফল গৃহিনীও বটে৷ সংসারের জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ সামলে এখনও দাপিয়ে অভিনয় করছেন তিনি৷ অভিনেত্রী মৌসুমী সাহার সঙ্গে কথা বললেন দেবযানী সরকার৷

কলকাতা 24×7: ইন্ডাসট্রিতে অনেকদিন আছেন কোনও তফাৎ বুঝছেন?
মৌসুমী সাহা: পরিবর্তন তো হয়েইছে৷ এখন সেটে জল চাইতে হয়৷ আগে সেটা হত না৷ এখন সবার মানসিকতা ফিক্সড টাকা পাচ্ছে৷ অনেক কাজ না জানা নতুন লোক ঢুকে পড়েছে৷ তবে টেকনিক্যালি অনেক বেশি ডেভলপমেন্ট হয়েছে৷ আগে ১০টা মানে ১০টাতেই শুটিং শুরু হত৷ এখন এসব মানা হয় না৷ তবে আগের থেকে কাজের সুযোগ অনেক বেড়েছে৷
কলকাতা 24×7: নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে?
মৌসুমী সাহা: তা একটু হচ্ছে৷ খুব তাড়াতাড়ি মানি আর ফেম দুটো পাওয়ার জন্য অনেকেই এই পেশায় আসছে৷ কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই ডিসিপ্লিন্ড নয়৷ সবাই আমরা প্রথমে নতুন ছিলাম৷ কিন্তু বেসিক অভিনয়টা থিয়েটার থেকে শিখে এসেছি৷ এখন কাজ না জেনেই অনেকে চলে আসে৷ চ্যানেলও তাদের খুব প্যাম্পার করে৷ দেরি করে ফ্লোরে ঢোকে, তাড়াতাড়ি বেরোয়, ইচ্ছামতো চলে৷ আমরা তো এসব কখনও ভাবতেই পারিনি৷
কলকাতা 24×7: এখন কি শুধু মেগাতেই কাজ করছেন নাকি বড় পর্দার কাজও করছেন?
মৌসুমী সাহা: বিকেলে ভোরের ফুল-এর শুটিং সবেমাত্র শেষ হয়েছে৷ এখন খোকাবাবু-তেই কাজ করছি৷ এছাড়া ডিসেম্বর থেকে একটা কমেডি শুটিং শুরু হবে৷ আর অনামিক নামে নতুন ছেলে ও একটা ছবি বানাচ্ছে৷ ওটাতে আছি৷ ছবিটার পুরো শুটিংই নর্থ বেঙ্গলে হবে৷
কলকাতা 24×7: ছোট পর্দা না বড় পর্দা, কোথায় কাজ করতে বেশি ভালো লাগে?
মৌসুমী সাহা: ছবি বেশি টাকা দেয় না৷ কিন্তু সিরিয়াল অর্থ দেয়৷ ছবি থাকে৷ দশ বছর পরও নিজের ছবিটা ইচ্ছে হলে দেখা যায়৷ কিন্তু সিরিয়াল খবরের কাগজের মতো৷ আর্কাইভে থাকে না৷ একজন শিল্পীর কাছে তাই দুটোই প্রায়োরিটি৷

hqdefault

কলকাতা 24×7: অন্যান্য ধারাবাহিক দেখেন?
মৌসুমী সাহা: কখনও বাড়ি ফিরে রাতে রিপিট টেলিকাস্ট দেখি৷ তবে খুব একটা বেশি দেখা হয় না৷
কলকাতা 24×7: মেগার হেকটিক সিডিউল সামলে সংসারের সব দায়িত্ব সামলাতে পারেন?
মৌসুমী সাহা: আমি তো জোর গলায় বলতে পারি, যে আমিই একমাত্র শিল্পী যে সংসার করে সিরিয়াল করি৷ স্নেহাশিষদা-কে বলি, দাদা আমার একটা সংসার আছে সেখানে আমার শাশুড়ি মা, স্বামী আছেন তাদের জন্য রান্না করে আসতে হবে৷ ১২টা-সাড়ে ১২টার আগে আমি আসতে পারব না৷ গতমাসে আমার কাজের লোক ছিল না৷ আমাকে শুধু রান্না নয়, বাসন মাজা, কাপড় কাচা অনেক কাজ করতে হয়েছে। আমি কিন্তু খুব আনন্দের সঙ্গেই কাজ করি৷ কারণ, আমি আমার সংসারকে কখনও অবহেলা করি না৷ দুটোই একসঙ্গে সামলাতে পারি বলে আমার ভালোই লাগে৷
কলকাতা 24×7: বিয়ের পরেই কি আপনার অভিনয় জীবন শুরু?
মৌসুমী সাহা: না না৷ আমি ১৯৮৯ সাল থেকে অভিনয় করছি৷ আর আমার বিয়ে হয়েছে ৯২-তে৷ ‘আপন আমার আপন’ ছবিতে আমি প্রথম অভিনয় করি৷ সঙ্গে থিয়েটারও করেছি৷ তবে বিয়ের পর আমার কেরিয়ারের ভাগ্য খুলে যায়৷ হানিমুন থেকে ফিরে এসে জানতে পারি পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমাকে আকাদেমি পুরস্কার দেবে৷ আমিই ওই সময় প্রথম যে খুব কম বয়সে এই পুরস্কার পেয়েছিলাম৷ তারপর তো জন্মভূমির মতো সিরিয়ালে অভিনয়ের সুযোগ পাই৷

GL09030650
কলকাতা 24×7: ধারাবাহিক ভাবে মা, বৌদির চরিত্রে অভিনয় করতে করতে কখনও ক্লান্ত লাগে না? মনে হয় না এই দু-একটা চরিত্রগুলোর মধ্যে আপনি সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছেন?
মৌসুমী সাহা: একেবারেই মনে হয় না৷ মেয়েদের তো বিভিন্ন রূপ হয়৷ কখনও মা কখনও বোন কখনও মেয়ে৷ সংসার জীবনের এই চরিত্রগুলোই তো আমরা টেলিভিশন কিংবা সিনেমার পর্দায় ফুটিয়ে তুলি৷
কলকাতা 24×7: নায়িকার চরিত্রে কখনও অভিনয়ের অফার পেয়েছেন?
মৌসুমী সাহা: অফার পেয়েছি৷ তপন সিনহার ‘আতঙ্ক’ ছবিতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয়ের অফার পেয়েছিলাম৷ কিন্তু পড়াশোনার জন্য বাবা-মা তখন কাজটা করতে দেয়নি৷ সেই ছবিটা করেই শতাব্দী লাইম লাইটে এসেছিল৷
কলকাতা 24×7: কোনও বিশেষ চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছে আছে?
মৌসুমী সাহা: (হেসে) রিনা ব্রাউনের রোল আমার স্বপ্নের রোল৷ তবে সে-স্বপ্ন আর এ জন্মে পূরণ হবে না আমি জানি৷
কলকাতা 24×7: অভিনেত্রী না হলে কি হতেন?
মৌসুমী সাহা: আমি যে খুব ভালো নাচ করি সেটা অনেকেই জানেন না৷ অভিনেত্রী না হলে নিশ্চয়ই নৃত্যশিল্পী হতাম৷ অথবা বিয়ে করে শুধু সংসারটাই আরও মন দিয়ে করতাম৷

কলকাতা 24×7: লাইফে কখনও স্ট্রাগল করতে হয়েছে?
মৌসুমী সাহা: ভাড়া বাড়িতে একটা ঘরে খুব কষ্ট আমরা চার বোন বড় হয়েছি৷ পড়াশোনা, নাচ-সবকিছুই প্রায় বিনা পয়সায় শিখেছি৷ বাবাকে হেল্প করার জন্য অফিস, ক্লাবেও ডান্স করেছি৷
কলকাতা24×7: রাজনীতিতে আসার কোনও ইচ্ছে আছে?
মৌসুমী সাহা: একেবারেই না৷ একবার আমাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আমার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ভোটে দাঁড়ানোর জন্য বলেছিল৷ আমি রাজি হইনি৷ ইটস নট মাই কাপ অফ টি৷