সব মহিলাই কি নির্দোষ? কী বলছেন সমাজকর্মীরা

562

498A-এ৷ এই আইনটাকে বিবাহিত মহিলাদের সুরক্ষাকবচ বলা হয়৷ অনেক সময়ই প্রশ্ন ওঠে নির্যাতিতা সব মহিলারাই কি এই আইনের সদব্যবহার করে? অনেক পুরুষদেরই অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই মহিলারাও এই আইনের সুযোগ নিয়ে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকেদের নাস্তানাবুদ করে৷ এপ্রসঙ্গে সমাজকর্মীরা কী বলছেন দেখে নেওয়া যাক৷ 

শ্বাশ্বতী ঘোষ: একেবারেই যে হয় না তা বলব না৷ তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়েদের ভুল বোঝানো হয়৷ এটা আইনের অপব্যবহার নয়, ক্ষমতায় অপব্যবহার৷ আমাদের এটা দেখতে হবে এই অপব্যবহারটা কে করে? মহিলারাই কি সবসময়ই এই অপব্যবহারটা করেন নাকি তার আইনজীবী, পুলিশ তারা করেন৷ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এই আইন বলে সাগর সেনকে হাজত বাস করিয়েছিলেন তাবলে কি সাধারণ ঘরের সব মেয়েরাই তাঁদের স্বামীকে হাজতবাস করাতে পারে?
বোলান গঙ্গোপাধ্যায়: ভারতের এমন কোনও আইন নেই যেগুলোর অপব্যবহার হয় না৷ সেইরকম 498A-এর ও অপব্যবহার হয়৷এক্ষেত্রে প্রশাসনের উচিত আরও সজাগ ও সতর্ক হওয়া৷ সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা উচিত তাদের৷ আর আইনের অপব্যবহার সবসময় ক্ষমতাশালীরাই করে৷ প্রশাসনের কর্তাদেরও উচিত সেইসব ক্ষমতাশালী মানুষদের সামনে মাথা না ঝোঁকানো৷
লীনা গঙ্গোপাধ্যায়: পুরুষরাও যে নির্যাতিত হয় না সেটা সম্পূর্ণ ভুল নয়৷অনেক পরিবার আছে যেখানে বাড়ির বৌয়ের জন্য বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে সমাজে সম্মান খোয়াতে হয়েছে৷ অনেক পুরুষকেও তাঁর স্ত্রী-এর জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে৷ কিন্তু তাবলে তো দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করার পর একটা আইনি সুরক্ষা বলয়কে ভেঙে দেওয়া যায় না৷ এখনও অনেক মহিলা আছেন যাঁরা সংসারে যোগ্য সম্মানটুকু পান না৷ দিনের পর দিন তাদের উপর অত্যাচার করা হয়৷ তাঁরা কি করবেন? কয়েকজন ঘৃণ্য মানসিকতার মহিলাদের জন্য এই অসহায় মহিলারা তো তাঁদের অস্ত্র ছেড়ে দিতে পারেন না৷