সাধারণী নমস্তুতে…

103

ছাপোষা৷ বড্ড সাধারণ৷ রোজকার যাতায়াত বাসে, ট্রেনে৷ কপাল খুব ভালো থাকলে একটু ফাঁকা পাওয়া যায় ট্রেনের কামরা,বাসের সিট৷ কিন্তু তেমন অবকাশ কোথায়৷ প্রতিদিনের হা ক্লান্ত লড়াই শেষে বাড়ি ফিরেও কি সেই শান্তি আছে? নেই বোধহয়৷ আপনার-আমার কথা নয়, লাখ লাখ মেয়েরা রোজ এভাবেই লড়াই চালায়৷ চাকরির জায়গায়, রাস্তা ঘাটে, বাড়িতে৷

অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, সম্মান বাঁচিয়ে রোজগারের লড়াই, আমিও পারি-প্রমাণ করার লড়াই৷ যোগ্যতা দিয়ে ওপরে ওঠার লড়াই৷ নারী মানেই ভোগ্যপণ্য নয়, সেটা জানানোর লড়াই৷ আমি রাস্তায় বেরিয়েছি কাজ করতে, ইচ্ছাকৃত নোংরা হাতের স্পর্শে কুঁকড়ে যাওয়া নিয়ে বাঁচতে নয়৷ রাস্তা দিয়ে হাঁটার অধিকার তোমাদের যতটা আছে, নারী হিসেবে আমারও ততটাই অধিকার৷ সুস্থভাবে হাঁটার অধিকার, বাসে, ট্রামে, ট্রেনে হাঁটা চলার অধিকার৷ কিন্তু পাচ্ছি কি আদৌও?

সমীক্ষা বলছে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সংখ্যা কমছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে যেখানেকাজের জায়গায় ছেলেদের সংখ্যা বেড়েছে নয় লক্ষের মতো। সেখানে কর্মক্ষেত্রথেকে বিদায় নিয়েছেন প্রায় ২৪ লক্ষ মহিলা। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ানইকোনমির করা এক সমীক্ষায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই সংস্থার শীর্ষআধিকারিক জানাচ্ছেন, কর্মক্ষেত্রের সমস্যায় বেশি পড়তে হয় মহিলাদের। যারপ্রভাব পড়ে তাদের জীবনেও। ফলে কাজ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন মহিলারা।

এটা নতুন ঘটনা নয়। আগেও ঘটেছে, হয়তো বেশিই ঘটেছে। দিল্লিরগণধর্ষণের পর লাগু হওয়া কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইনও (২০১৩)রক্ষা কবচ হয়ে উঠতে পারছে না৷ ওই আইন লাগুহওয়ার পর ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও, ইন্ডিয়ান বার অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক একটিসমীক্ষা জানিয়েছে, ভারতে কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া মহিলাদের৭০ শতাংশই লিখিত ভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান না। ভয় পান বলে।অপমানিত হওয়ার ভয়ে, চাকরি খোয়ানোর ভয়ে। অপদস্থ, অবদমিত, অপসারিত ও পদাবনতিরভয়ে।

ওই সমীক্ষা আরও দু’টি মজার তথ্য দিয়েছে। তা হল, লিখিত অভিযোগ জানানোরঘটনা যেমন আগের বছরগুলির তুলনায় বেড়েছে, তেমনই কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের ওপরযৌন নির্যাতনের ঘটনার সংখ্যাও গিয়েছে অনেক বেড়ে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডসব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৫-য় কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের ওপর যৌননির্যাতনের ঘটনায় লিখিত অভিযোগের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ৫৭ থেকে বেড়েহয়েছে ১১৯। কিন্তু ওই সময়েই কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনাবেড়েছে ৫১ শতাংশ। ২০১৪ সালে যে সংখ্যাটা ছিল ৪৬৯, সেটাই ২০১৫ সালে বেড়েহয়েছে ৭১৪।

আইন আছে, কিন্তু সেই আইনকে কার্যকর করার জন্য যা যা থাকার দরকার, বেশিরভাগ কর্মক্ষেত্রেই তা নেই, এমনটাই বলছেন নারী অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলিরকর্মকর্তারা।আইন বলছে, ১০ জনের বেশি কর্মী থাকলেই যেকোনও সংস্থা, সংগঠনে অভিযোগগুলির তদন্তের জন্য কমিটি রাখতে হবে৷

ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর একটিসমীক্ষা বলছে, অন্তত ৩৬ শতাংশ ভারতীয় সংস্থায় (সরকারি ও বেসরকারি) এমন কোনওকমিটিরই অস্তিত্ব নেই।

তাহলে? উপায় কি? আইন পাশে থাকুক, না থাকুক, গলার জোর থাকুক আমাদের সাথে৷ থাকুক মনের জোর৷ যাতে যৌন হেনস্থাকারীর মনে ভয় আসে৷ এই কাজ করতে দুবার যাতে ভাবতে হয়, গড়ে তুলুন সেই প্রতিবাদ৷ অফিসের মহিলাকর্মীদের নিয়ে নিজেরাই গড়ে তুলুন সংগঠন৷ গোষ্ঠীরবদ্ধতার সামনে নত হবেই অন্যায়৷ হতে বাধ্য৷ আমার দুর্গা ত্রিশূল ধরেছে স্বর্গে এবং মর্তে, আমার দুর্গা বাঁচতে শিখেছে নিজেই নিজের শর্তে…….