খারাপের মধ্যে থেকে ভালকে খুঁজে নিয়েই আনন্দে থাকি

153

কমেডিয়ান হিসেবে গোটা ইন্ডাসট্রিতে তাঁর সুনাম রয়েছে৷ তাঁর অভিনয় দেখলে মানুষের মন হালকা হয়ে যায়৷ টালিগঞ্জের ব্যস্ত এই অভিনেত্রী এবার ডিজাইনার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন৷ মানসী সিনহার আগামী পরিকল্পনার কথা শুনলেন দেবযানী সরকার

প্রশ্ন: অভিনয় থেকে হঠাৎ বুটিকের ব্যবসায় এলেন কেন?
উত্তর: বছর দুয়েক আগে নিজে কয়েকটা শাড়ির ডিজাইন করেছিলাম৷ সেগুলো বন্ধুবান্ধবদের খুব ভাল লেগেছিল৷ তারপর অনেকগুলো শাড়ি বিক্রি করেছি৷ একদিন আমার হাজব্যান্ড বলল, তুমি এভাবে ব্যাগে করে শাড়ি নিয়ে গিয়ে বিক্রি করো কেন? পাকাপাকিভাবেই একটা কিছু করো৷ তারপরই কামালগাছিতে আমাদের বাড়ির একতলাতে বুটিক খুলেছি৷ এখনও অফিসিয়ালি ওপেনিং হয়নি৷ ভাদ্র মাসটা কেটে গেলেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে৷ তবে এখন অনেক অর্ডারের সাপ্লাই দিচ্ছি৷

প্রশ্ন: পুরোদমে ব্যবসা শুরু হলে অভিনয় কেরিয়ারে কোনও প্রভাব পড়বে না?
উত্তর:একেবারেই না৷ অভিনয় আমি কোনওদিনই ছাড়ব না৷

প্রশ্ন: ডিজাইন কী তুমি নিজেই করো?
উত্তর: হ্যাঁ৷ ছোটবেলার আঁকাঅঁকি, সেলাই শেখাটা এখন কাজে লেগে গেল৷ মাথায় যে ডিজাইনগুলো গিজগিজ করে, সেগুলো শুটিং-এর ফাঁকে ফাঁকেই খাতায় পেনসিল দিয়ে এঁকে নিই৷ তারপর টেইলারের কাছে পাঠিয়ে দিই৷

প্রশ্ন: তোমার বুটিকের স্পেশালিটি কী?
উত্তর: আমার বুটিকে কোনও সিন্থেটিক জিনিস পাবে না৷ আমার কালেকশন সব খাদি কাপড় আর গামছা দিয়ে হয়৷ মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করেও বানাচ্ছি৷ পয়লা বৈশাখে একটা নতুন কালেকশন আনব৷ আমার নন্দাইও খুব ভাল আঁকে৷ ও আমাকে হেল্প করে৷

Manashi1

প্রশ্ন: কিছুদিন পর তো ডিজাইনার মানসী সিনহার বেশ নাম হয়ে যাবে৷ তখন ডিজাইনার না অভিনেত্রী কোন পরিচয়টা বেশি এনজয় করবেন?
উত্তর: সত্যি বলব, আমি খুব খুশি হব যদি আমাকে কেউ মেঘ-বৃষ্টির মা হিসেবে চেনে৷ আমার কাছে এর থেকে ভাল আইডেনন্টিটি আর নেই৷ ওদের যদি ভাল করে মানুষ করতে পারি তার থেকে বেশি আনন্দের আর কিছু হতে পারে না!
আর হ্যাঁ, বুটিক করার অন্য একটা কারণও আছে৷ অভিনয় তো ছাড়তে পারব না৷ এখন থিয়েটার করতে পারছি না৷ আমার বয়স বাড়বে৷ শরীরে জোর কমে যাবে৷ অনেককে বেশি বয়সেও হেকটিক সিলিউলে কাজ করতে দখেছি৷ কিন্তু আমি সেটা করব না৷ তখন একটু চুজি হব৷ হয়তো মেগা করব না৷ ভাল স্ক্রিপ্ট পেলে সিনেমায় অভিনয় করব৷ এটা ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হচ্ছে৷ এটা আমার সন্তানের মতোই৷

প্রশ্ন: আপনাকে সংসারের কোনও দায়িত্ব সামলাতে হয়?
উত্তর: হ্যাঁ৷ আমি রান্নাবান্না সব করতে পারি৷ যখনই সময় পাই রান্না করি৷ আর ছেলেমেয়ের সবকিছু খেয়াল তো রাখতেই হয়৷ একসঙ্গে সবকিছু সামলাতে আমার ভালই লাগে৷ বিশ্বজিৎ দা (অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী) আমাকে একদিন বলেছিলেন, ব্যর্থ লোকের সময়ের অভাব হয় না– এই কথাটা আমি সারাজীবন মনে রাখব৷

প্রশ্ন: বেশ অনেকদিন হল ইন্ডাসট্রিতে আছো৷ কোনও স্ট্রাগল করতে হয়েছে?
উত্তর: আমার অভিনয় শুরু থিয়েটার থেকে৷ মা মণিদীপা রায় যেহেতু থিয়েটারের খুব জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন, তার মেয়ে হিসেবে আমাকে খুব একটা স্ট্রাগল করতে হয়নি৷ টালিগঞ্জেও আমার কাজ পেতে অসুবিধা হয়নি৷

Manashi

প্রশ্ন: কমেডি চরিত্রে যাঁরা অভিনয় করেন তাঁদের কাউকে অনুসরণ করেন?
উত্তর: পরান দা, তনিমা দি, খরাজ দা, রুদ্রনীলদের থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি৷ শেখার কোনও শেষ নেই৷ জুনিয়ারদের থেকেও আমি শিখি৷ ‘আমি সব জানি’– এটা হতে পারে না৷

প্রশ্ন: অনস্ত্রিনের মতো অফস্ক্রিনেও তুমি সবসময় হাসিখুশি থাকো… এর রহস্যটা কী?
উত্তর: দেখ, সমস্যা তো সবার জীবনেই আছে৷ যদি কেউ গ্যারান্টি দিয়ে বলে কাঁদলে সমস্যা মিটবে তাহলে এত কাঁদতাম একটা মহাসাগর হয়ে যেত৷ তাই খারাপের মধ্যে থেকে ভালকে খুঁজে নিয়ে আনন্দে থাকি৷

প্রশ্ন: কষ্টের সময় মনের কথা বলা যায় ইন্ডাসট্রিতে এরকম বন্ধু আছে?
উত্তর: নাহ৷ আমার স্কুলের পাঁচজন বন্ধু আছে৷ আমরা পাঁচজন পাঁচজনের কাছে খুব উন্মুক্ত৷ এক জায়গায় কষ্ট পেলে আর এক জায়গায় মন ভাল করে নিই৷ পরিবার, বন্ধুবান্ধব সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে আমি খুব ভালই আছি৷