দেদার খিচুড়িতেই জমে যাক সরস্বতী পুজো

325

সরস্বতী পুজো মানেই হলুদ শাড়ি, প্রেম…এসব তো আছেই৷ তবে পুজোর জমিয়ে খিচুড়ি না খেলে গোটা দিনটাই কেমন যেন পানসে হয়ে যায়৷ তাই ‘বাঙালির প্রেম দিবস’-এ কোনও খামতি না রাখতে এবারের সংখ্যায় থাকল সরস্বতী পুজো স্পেশ্যাল রেসিপি৷ খিচুড়ি থেকে চাটনি…কোনটাই বাদ রইল না৷

সবজি খিচুড়ি
উপকরণ: বাসমতি চাল-৯ কাপ, ভাজা মুগ ডাল-৯ কাপ • ডুমো করে কাটা আলু, ফুলকপি, মটরশুটি, গোটা গরমমশলা, তেল আন্দাজমতো, তেজপাতা- ২টি, কাচালঙ্কা-৪টি, আদা বাটা- ১ চামচ, জিরেবাটা আন্দাজমত, নুন, মিষ্টি, হলুদ আন্দাজমতো৷
প্রণালী
ফুলকপি ছোট ছোট করে ছাড়িয়ে রাখুন। মটরশুঁটিও ছাড়িয়ে আলাদা করে নিন। রাইসকুকারে দু’চামচ তেল গরম করে হলে জিরে, আদাবাটা,কাঁচালঙ্কা, গোটা গরমমশলা দিয়ে কুকার বন্ধ করে দিন। এরপর সব্জি ও আন্দাজমত নুন-হলুদ দিয়ে নেনে চেড়ে দিন।
বেশ গরম হলে তাতে চাল, ডাল, ১২ কাপ জল, নুন, মিষ্টি দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে কুকারে সেদ্ধ হতে দিন। নামানোর আগে ২ চামচ ঘি দিয়ে দিন।

kichuri

বাঁধাকপির ঘন্ট

উপকরণ: বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, আলু, আদা(বাটা),কাঁচালঙ্কা ,গরম মশলা, জিরার গুঁড়ো ১ চা চামচ, নুন, হলুদ, চিনি, তেল, ময়দা এক চা চামচ প্রয়োজন হলে),গাওয়া ঘি।

প্রণালী:
বাঁধাকপি যতটা সম্ভব মিহি করে কেটে নিয়ে ধুয়ে নিন।ভাল করে জল ঝরিয়ে নিন।আলু ছোট ছোট টুকরো করে নিন।মটরশুঁটি ছাড়িয়ে নিন৷
প্রেসার কুকারের বাঁধাকপি,কুচানো,আলু, মটরশুঁটি, টমেটো কুচি, হলুদ ও নুন ও মিষ্টি দিয়ে একটি বা দুটি সিটি দিয়ে নিন।জল দেবেন না।সিটি বসে গেলে ঢাকনা খুলে জল বেরোলে বাড়তি জল ঢেলে রাখুন।
এবার কড়াইতে তেল দিন।গরম হলে একে একে পাঁচফোড়ং,তেজপাতা ও চেরা কাঁচালঙ্কা দিয়ে ভেজে নিয়ে আদাবাটা ও জিরে গুঁড়ো দিয়ে বেশ খানিক্ষণ নেড়ে নিয়ে বাঁধাকপি ঢেলে দিন।ভালোভাবে নাড়াচাড়া করুন।লাগলে নুন ও মিষ্টি দিন।ভালোভাবে কষুন।নামানোর আগে হিং ও গরম মশলা দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।ওপর দিয়ে ঘি ছড়িয়ে দিতে পারেন।

ছানার ডালনা
উপকরণ: দুধ-১ লিটার লেবুর রস: ৩ টেবল চামচ (২টো বড় লেবুর) টোম্যাটো: ২-৩ টে (কুচনো) আদা: ১ ইঞ্চি স্টিক (বাটা) হলুদ গুঁড়ো: ১ চা চামচ লঙ্কা গুঁড়ো: ২ চা চামচ জিরে গুঁড়ো: ১ চা চামচ ধনে গুঁড়ো: ২ চা চামচ গরম মশলা গুঁড়ো: দেড় চা চামচ গোটা জিরে: আধ চা চামচ ছোট এলাচ: ৩ টে দারচিনি: ১টা মাঝারি স্টিক লবঙ্গ: ৩ টে তেজপাতা: মাঝারি কাঁচা লঙ্কা: ২টো (চেরা) নুন: স্বাদ মতো চিনি: ১ চা চামচ তেল: ১/৪ কাপ

রান্নার আগে দুধ ফুটতে দিন। ফুটে উঠলে ধীরে ধীরে লেবুর রস ঢেলে দিন।আঁচ বন্ধ করে ভাল ভাবে মেশান লেবুর রস। দেখবেন আস্তে আস্তে দুধ কেটে ছানার বড় বড় ডেলা তৈরি হচ্ছে।পাতলা কাপড়ে ছানা ভাল করে ছেঁকে নিন।

এ বার ভাল করে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন যাতে অতিরিক্ত লেবুর গন্ধ চলে যায়।ছানা পাতলা কাপড়ে বেঁধে এক ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখুন যাতে জল ঝরে যায়।

কী ভাবে বানাবেন

ছানা হাত দিয়ে পুরো গুঁড়ো করে নিয়ে কর্নফ্লাওয়ার, গরম মশলা গুঁড়ো ও সামান্য নুন দিয়ে ভাল করে মেখে নিয়ে হাতের চাপে গোল গোল বল তৈরি করে নিন।লাল করে ছানার বল ভেজে নিন।কড়াইতে তেল গরম করে আলু দিয়ে ভাজুন।ভাজা আলু তেল থেকে তুলে নিয়ে ওই তেলেই গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিন।ফোড়নের সুন্দর গন্ধ বেরোলে একে একে টোম্যাটো কুচি, আদা বাটা, কাঁচা লঙ্কা চেরা, নুন, চিনি দিয়ে দিন। টোম্যাটো তেল ছাড়তে থাকা পর্যন্ত কষাতে থাকুন।সামান্য জল দিয়ে গুঁড়ো মশলা দিয়ে দিন। ২ মিনিট রান্না করুন যাতে মশলার কাঁচা গন্ধ চলে যায়।এ বার আলু ও জল দিয়ে চাপা দিয়ে ফুটতে দিন যতক্ষণ না আলু ভাল ভাবে সিদ্ধ হচ্ছে।আলু পুরোপুরি সিদ্ধ হয়ে গেলে গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে ছানার বল দিয়ে দিন। আঁচ একদম কমিয়ে ২ মিনিট ঢিমে আঁচে রেখে বন্ধ করে দিন।

mishti
পান্তুয়া

পান্তুয়া উপকরণ: শিরার জন্য: জল দেড় কাপ, চিনি দেড় কাপ। মিষ্টির জন্য: ক্রিম আধা কাপ, গুঁড়ো দুধ ১ কাপ, ময়দা ২ চা-চামচ, ঘি দেড় কাপ ও ১ টেবিল চামচ। প্রণালি: চিনি ও জল একত্রে জ্বাল দিয়ে শিরা তৈরি করুন। গুঁড়ো দুধ ও ময়দা মিশিয়ে ক্রিম দিয়ে ছেনে মসৃণ ডো তৈরি করুন। ১ টেবিল চামচ ঘি মিশিয়ে আরেকটু মসৃণ করে ছেনে নিন। ১০-১২টি ভাগ করুন। হাতের তালুতে একেকটি ভাগ ডো নিয়ে গোল গোল মিষ্টি তৈরি করুন। কড়াইয়ে ঘি অল্প আঁচে গলিয়ে গরম করুন। এবার মাঝারি আঁচে মিষ্টিগুলো ঘিয়ে ঢেলে লালচে রং করে ভেজে নিন। সঙ্গে সঙ্গে শিরায় ছেড়ে দিন। ৩-৪ মিনিট মিষ্টিসহ শিরা জ্বাল দিন। নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

chatni

কুলের চাটনি
উপকরণ: লাল শুকনো টোপা কুল, পাঁচফোড়ন, তেল, শুকনো লাল লঙ্কা (গোটা), গুড় বা চিনি, নুন স্বাদমতো, হলুদ ও জল৷
প্রণালী: কড়াইতে তেল গরম করে গোটা শুকনো লাল লঙ্কা, পাঁচফোড়ন দিন৷ ফোড়নের গন্ধ বেরলে শুকনো কুল দিয়ে ভাজুন৷ ভাল ভাজা হয়ে গেলে হলুদ দিন৷ আর একটু নেড়েচেড়ে জল দিন৷ স্বাদমতো নুন দিন৷ কিছুক্ষণ ফুটতে দিন৷ কুল সেদ্ধ হয়ে গেলে যে যেমন মিষ্টি খান সেই মতো গুড় বা চিনি দিন৷ চিনি বা গুড় মিশে গেলে অল্প গাঢ় হলে নামিয়ে নিন৷ অনেকে অবশ্য কুলের অম্বলও খান সেক্ষেত্রে মিষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন নেই৷