233

মাছের প্রতি দুর্বলতা বাঙালির বরাবরই৷ এমন কিছু বাঙালি বাড়ি রয়েছে যেখানে প্রতিদিনই ভাতের গ্রাসে মাছের টুকরো চাই-ই৷ কিন্তু ৩৬৫ দিন  একই রান্না কার ভালো লাগে বলুন তো? তাই এবার মাছের পদে স্বাদ বদলান৷

তোপসে তেঁতুল

উপকরণ: তোপসে মাছ ৫০০ গ্রাম, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ চা-চামচ, চেরা কাঁচা লঙ্কা ২টি, হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়ো আধ চা-চামচ, তেঁতুলের কাথ ১ টেবিল চামচ, চিনি আধ চা-চামচ, নুন স্বাদমতো ও তেল প্রয়োজনমতো।

ব্যাটার তৈরি করতে লাগবে :

বেসন বা ময়দা ১ কাপ, ডিম ১টি, নুন স্বাদমতো, আদা বাটা ১ চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, তেল ১ টেবিল চামচ, সব উপকরণ প্রয়োজনমতো, জল দিয়ে গুলে ঘন ব্যাটার তৈরি করে নিতে হবে।

প্রণালী:  মাছে লবণ, হলুদ ও লেবুর রস দিয়ে মেখে ব্যাটারে চুবিয়ে ডুবো তেলে ভেজে নিতে হবে। অন্য একটি ফ্রাইপ্যানে ২ টেবিল চামচ তেল দিয়ে তাতে পেঁয়াজ বাটা, রসুন বাটা, হলুদ-লঙ্কার গুঁড়ো ও সামান্য জল দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। এবার তেঁতুলের কাথ ও চিনি দিন। ঝোল ঘন হয়ে এলে সার্ভিং ডিশে ভাজা মাছের ওপর ঢেলে দিন। সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

আনারসের মুড়িঘন্ট:

মাছের মাথা ২৫০-৫০০ গ্রাম,  আলু ১০০ গ্রাম, পেঁয়াজ ১৫০ গ্রাম, আদা ১ চামচ, ধনে গুঁড়ো ১ চা-চামচ,  এলাচ ও দারচিনি ১০ গ্রাম, তেজপাতা ২ টো, হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো ৩ চা-চামচ, গোবিন্দভোগ চাল ১ কাপ (ধুয়ে ভিজিয়ে রাখা), আনারস (২কাপ, টুকরো করা), আনারসের জুস (অল্প), ঘি ১ চামচ, তেল, চিনি ১ চা-চামচ, জিরে ভেজে গুঁড়ো করা, ১ চা-চামচ, চেরি টমেটো সাজানোর জন্য

প্রণালী:- মাছের মাথা ধুয়ে নুন, হলুদ মাখিয়ে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে মাছের মাথাগুলো ভাল করে ভেজে নিন। আলু লম্বা করে কেটে নুন, হলুদ মাখিয়ে ভেজে তুলে রাখুন। কড়াইতে তেল ও ঘি একসঙ্গে গরম করে তাতে থেঁতো করে নেওয়া গরম মশলা ফোড়ন দিন। এবারে ভিজিয়ে রাখা চালটা দিয়ে কষিয়ে নিন। পেঁয়াজ বাটা ও আদাবাটা মেশান। সোনালি রঙ ধরলে তাতে জিরে-ধনে বাটা ও লাল লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে আবারও কষান। মাছের মাথা ও আনারসের টুকরো দিয়ে নাড়াচাড়া করে সামান্য জল দিন। ভেজে রাখা আলুর টুকরো মিশিয়ে ঢেকে রাখুন। সবকিছু সেদ্ধ হয়ে এলে ঘি ছড়িয়ে দিন। এবারে আনারসের জুস দিয়ে হালকাভাবে নেড়ে স্টান্ডিং টাইমে ঢেকে রাখুন কিছুক্ষণ। তারপর পরিবেশন করুন।

আম দিয়ে কাচকি মাছ

উপকরণ: কাচকি মাছ ২৫০ গ্রাম, কাঁচা আম ৬ টুকরা, পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ চা-চামচ,৫. রসুন বাটা আধা চা-চামচ, হলুদ গুঁড়ো আধা চা-চামচ, লঙ্কা গুঁড়ো আধা চা-চামচ, নুন স্বাদমতো, তেল ১ টেবিল চামচ, চেরা কাঁচালঙ্কা ৪টে৷ ধনেপাতা কুঁচি ১ টেবিল চামচ।

প্রণালী: কাচকি মাছ পরিষ্কার করে ধুয়ে ধনেপাতা ছাড়া অন্য সব উপকরণ দিয়ে মেখে নিন। অল্প জল দিয়ে বসান। মাছ সেদ্ধ হয়ে তেল ওপরে উঠে এলে ধনেপাতা দিয়ে নামিয়ে নিন।

বেলে-টমেটোর টক

উপকরণ :বেলে মাছ ৪০০ গ্রাম, টমেটো কুচি ১টি, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ চা-চামচ, জিরা বাটা ১ চা-চামচ, দু-তিনটে কাঁচা লঙ্কা চেরা৷হলুদ গুঁড়ো আধ চা-চামচ, লঙ্কা গুঁড়ো আধ চা-চামচ, নুন স্বাদমতো, তেল প্রয়োজনমতো, জল আধ কাপ।

প্রণালী: মাছ কেটে ধুয়ে তাতে লবণ, হলুদ ও রসুন বাটা মেখে ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে ভেজে তুলে রাখুন। কড়াইয়ে তেল দিয়ে তাতে পেঁয়াজ বাটা, রসুন বাটা, জিরা বাটা, হলুদ গুঁড়া, লঙ্কা গুঁড়ো, লবণ ও সামান্য জল দিয়ে কষিয়ে নিন। কষানো হলে টমেটো কুচি দিয়ে একটু নেড়েচেড়ে জল দিন। জল ফুটে উঠলে বেলে মাছগুলো দিন। ঝোল ঘন হলে কাঁচা লঙ্কা দিয়ে নামিয়ে নিন।

স্টাফ রুই কাবাব

উপকরণ: রুই মাছের পেটি (৫০০ গ্রাম), আলু সেদ্ধ করা (১ টা, বড়), পার্সলে পাতা বাটা (২ চামচ), কাঁচালঙ্কা কুচি (স্বাদ অনুযায়ী), রসুন বাটা (২ চামচ), পেঁয়াজ বাটা (২ চামচ), নুন-চিনি (আন্দাজমতো), লঙ্কা গুঁড়ো (সামান্য), কর্নফ্লাওয়ার (প্রয়োজনমতো), গরম মশলা (ভেজে গুঁড়ো করা, ২ চামচ), জায়ফল-কাবাব চিনি-সা মরিচ (একসঙ্গে রোস্ট করে গুঁড়ো করা, আধ চা-চামচ), ক্যাপসিকাম বাটা (২ চামচ)।

পুরের জন্য: চিংড়ি মাছ সামান্য জলে সেদ্ধ করে নিন। নুন, গোলমরিচ, লেবুর রস ও একটু পার্সলে কুচি মাখনে ভেজে একটা পুর তৈরি করে রাখুন।

সমস্ত উপকরণ সেদ্ধ করা রুই মাছের সঙ্গে সামান্য ঘি দিয়ে মেখে লেচি করে তার মধ্যে চিংড়ি মাছের পুর ভরে কাবাবের আকারে গড়ে ননস্টিক প্যানে সামান্য ঘি ব্রাশ করে হালকা ভেজে নিন বা মাইক্রোওভেনে ফুল পাওয়ারে ৮ মিনিট বেক করে নিন। ধনেপাতা, পুদিনা পাতা ও কাঁচালঙ্কা একসঙ্গে বেটে আন্দাজমতো নুন-চিনি দিয়ে চাটনি বানিয়ে কাবাবের সঙ্গে পরিবেশন করুন।