বন্ধু তোমায় এ গান শোনাব বিকেল বেলায়..

72

একজন এমন মানুষ যে সব কিছুর সঙ্গী৷ আপনার ভালো, আপনার মন্দ, সবকিছুর শরিক সেই বন্ধু৷ মন খারাপ হলে তার কাঁধে মাথা রাখা যায়। তার সামনে কাঁদা যায়৷ হাসা যায়৷ যা খুশি তাই করা যায়৷

এই সম্পর্কের ভিত্তি হঠাৎ করেই বদলে যেতে পারে৷ আলাপ জমবার পর থেকেই মনে হয়, এই তো সেই মানুষ যার সঙ্গে সব কথা বলা যায়, এমনকি গোপনতম কথাটাও বাদ যায় না। এরকম মানুষই তো আমাদের প্রিয় বন্ধু হয়ে ওঠেন। আর এই প্রিয় বন্ধু হওয়ার কোনও বয়স নেই। দুটি মেয়ে বা দুটি ছেলে যেমন একে অপরের প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠতে পারে, তেমনই একজন পুরুষ আর একজন মহিলাও একে অপরের প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন।
আর এক্ষেত্রে বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কটা ভালোবাসার সম্পর্কে উত্তীর্ণ হওয়াটা খুব একটা আশ্চর্যের নয় । কিন্তু কীভাবে বুঝবেন আপনার প্রিয় বন্ধু বা বান্ধবীটিই, আপনার জীবনের সেই বিশেষ ব্যক্তি, যাকে আমরা বলি ‘সোলমেট’। তা বোঝার প্রথম শর্ত-মনে ধরলে একে-অপরকে সময় দিন।

১. অনেক সময় এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যখন মুখে কিছু বলতে হয় না, একজনের মনের ভাব অন্যজন ঠিক বুঝে নিতে পারেন। বা একজনের মুখ দেখেই অন্যজন বুঝতে পারেন, তখন তিনি ঠিক কী চাইছেন। যদি দেখেন আপনাদের বন্ধুত্বের মধ্যেও এমন একটা রসায়ন তৈরি হয়েছে, তাহলে বুঝবেন আপনারা ‘মেড ফর ইচ আদার’। কারণ বোঝাপড়া ভালো হলে, তা সম্পর্ককে মজবুত করতে সাহায্য করে।

২. আমরা নিজেদেরই সবচেয়ে ভালো বুঝি। তবে আপনার প্রিয় বন্ধু যদি আপনার ‘সোলমেট’ হন, তাহলে তিনি আপনাকে আপনার চেয়েও ভালো বুঝবেন। এমনকি কোনও বিশেষ পরিস্থিতিতে আপনি থাকলে কেমন ভাবে রিঅ্যাক্ট করবেন, সেটাও তিনি আগে থাকতেই বলে দিতে পারেন এবং আপনাকে সেই মতোই সামলাতে পারেন। কোনও বিষয়ে হয়তো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এক্ষেত্রে অন্যজন হয়তো কোনও পরামর্শ দিলেন। পরে ভেবে দেখলেন আপনিও ঠিক এইটাই চাইছিলেন।

৩. যখন দেখবেন আপনারা খুব সাধারণ কোনও অ্যাক্টিভিটিও একসঙ্গে উপভোগ করছেন, বা জীবনের ছোটো ছোটো ঘটনা নিয়ে দুজনে মজা করছেন-সেটা একসঙ্গে বৃষ্টি দেখা হতে পারে কিংবা ভিডিও গেম খেলা-এগুলোও কিন্তু একে অপরের সেই বিশেষ মানুষ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়।

৪. আপনার মন খারাপের দিনে, তা সে যত তুচ্ছ কারণেই হোক না কেন, তিনি যদি আপনার সঙ্গে থাকেন, আপনার মন ভালো রাখার চেষ্টা করেন কিংবা আপনার সমস্ত কথা মন দিয়ে শোনেন, কিংবা তার জীবনে যা ঘটনাই ঘটুক না কেন, তিনি যদি সবার আগে আপনাকে তা জানান, তাহলে বুঝবেন তিনি আপনার জীবনের স্পেশাল মানুষটি হতে পারেন। আর আপনিও যদি তার এমন ছোটো বড় প্রয়োজনে অপর মানুষটির পাশে দাঁড়াতে পারেন তাহলে তো আর কোনও সন্দেহই থাকে না।

৫. যদি দেখেন আপনার বন্ধুর উপস্থিতিতে আপনি আসলে যেমন ঠিক তেমনই আচরণ করতে পারছেন অর্থাৎ নিজের ব্যবহার সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতন হওয়ার দরকার হচ্ছে না, তাহলে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভালোবাসার সম্পর্কে এগিয়ে যেতেই পারে।