রোগা মানেই ফিট নয়

375

রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা, দৈহিক শক্তি ও কর্মক্ষমতা এবং শরীরের নমনীয়তাকে ফিটনেস-এর মানদণ্ড হিসাবে বিচার করাই যেতে পারে। কিন্তু আন্ডারওয়েট অথবা অপরিমিত ওজনে ভুগতে থাকা এমন কাউকে আর যাই হোক ‘ফিট’ অন্তত বলা যাবে না। রোগা হলেই ফিট হয় না কারণ ওবিসিটি-এর মতো আন্ডারওয়েট একটা শারীরিক সমস্যা, আর এই সমস্যায় ভুগতে থাকা মানুষের সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়।
উচ্চতা অনুযায়ী দৈহিক ওজনের ন্যূনতম পরিমাপ থেকে যদি বেশ খানিকটা কম থাকে তা হলেই আন্ডারওয়েট বা অপরিমিত ওজন বলে চিহ্নিত করা হয়।
আন্ডারওয়েটদের সমস্যা কোথায়?
উচ্চতা অনুযায়ী দেহের ওজন স্বাভাবিকের থেকে অনেক কম থাকলে অল্পতেই দেহে সংক্রমণের প্রবণতা, জীবনীশক্তির অভাব, একটুতেই ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, মানসিক অবসাদ, নিজের চেহারা নিয়ে একটা হীনম্মন্যতা, মহিলাদের অ্যামেনোরিয়া বা ঋতুস্রাবের অনুপস্থিতি, গর্ভধারণের অসুবিধা, রক্তাল্পতা, অস্টিয়োপরোসিস-এর সম্ভাবনা এমনকী অনমনীয় ত্বকের সমস্যাও হতে পারে।
আন্ডারওয়েট হওয়ার কারণ কী
• অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস
• পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব
• পাকস্থলী ও যকৃতের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে শরীরে পুষ্টির মাত্রা হ্রাস
• ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ অথবা সিনড্রোম যেমন দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া, অ্যাসিডিটি, পেটে কৃমি, কোষ্ঠবদ্ধতা, বদহজম
• হাইপার থাইরয়েড
• বয়ঃসন্ধিক্ষণে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রোগাটে ভাব দেখা দেয়
• জিনগত রোগাটে গড়ন
• অতিরিক্ত ডায়েটিং-এর ঠেলায় খাবারে ভয় যেমন অ্যানেরেক্সিয়া, অথবা বুলিমিয়া

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস চালু করুন
সারা দিনে ৫-৬ বার খাওয়ার অভ্যাস করুন। ছোট মিল-এর মধ্যে ৩ ঘণ্টা, বড় মিল-এর মধ্যে ৬ ঘণ্টা গ্যাপ রাখুন। খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। ভুল করেও বিয়ার খেয়ে শরীর ফোলাবার চেষ্টা করবেন না। এতে পেটের সমস্যা বাড়বে, একটা নেয়াপাতি ভুঁড়ি তৈরি হবে আর আপনার বুক, হাত-পা সেই সরুই থেকে যাবে।