মুঠোফোন থেকে বেরিয়ে বাঁচুন অন্যভাবে

492

স্মার্টফোন ছাড়া জীবন ভাবা অসম্ভব৷ কিন্তু সত্যিই কি তাই? জীবনকে ঠিক কতটা উপভোগ করছেন আপনি? আপনার হাতের মুঠোয় ভরে রাখা পৃথিবীটা কি আপনার জন্য যথেষ্ট? যদি উত্তর হয়- না, তবে এখনই স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীলতা ঝেড়ে ফেলুন। আবিষ্কার করুন এমন এক পৃথিবী যেখানে স্মার্টফোনের কোনোই দরকার নেই।

ছবি আঁকুন
স্মার্ট ফোনের টাচস্ক্রিনে কোনো কিছু এঁকে মজা পান আপনি? তাহলে ভাবুন আসল রঙ হাতে মাখিয়ে তা সত্যিকারের ক্যানভাসে ভরিয়ে দিতে কতটা ভালো লাগবে আপনার।

স্মার্টফোনে অ্যালার্ম না দিয়েই ঘুমিয়ে পড়ুন
বিছানায় মাথার কাছে বা বালিশের নিচে ফোন রাখলে তা আপনার ক্ষতিই করতে পারে। নির্বিঘ্নে, অ্যালার্মের চিন্তা না করে ঘুমিয়ে পড়ুন কিছুক্ষনের জন্য। ভালো লাগছে, তাই না?

সত্যিকারের প্রাণী পুষুন
অনলাইনে অনেকেই আদুরে বেড়ালের ছবি দেখতে ভালোবাসেন, বিভিন্ন অ্যাপের সাহায্যে ভার্চুয়াল প্রাণী পুষে থাকেন। কিন্তু আসল একটা প্রাণীকে নিজের যত্নে পেলে-পুষে বড় করার যে আনন্দ, সেটা আপনি মোটেও পাবেন না ছোট্ট ওই স্ক্রিনে। জীবন্ত একটি প্রাণীকে আদর দিন। সে কড়ায় গণ্ডায় আপনার ভালোবাসার মুল্য পরিশোধ করবে।

বন্ধুদের নিয়ে দেখুন সিনেমা অথবা নাটক
স্মার্ট ফোনে বিভিন্ন ভিডিও দেখে যতটা না সন্তুষ্টি পাবেন, তার চাইতে বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যেতে পারেন। এমনকি নাট্যশালায় নাটক দেখতেও যেতে পারেন। তার মাঝে যে বিনোদন পাবেন তার সাথে ইউটিউব ভিডিওর তুলনা হয় না।

কাগজ কলম নিয়ে কিছু লিখুন
সেটা হতে পারে আপনার মাথায় ঘুরতে থাকা চিন্তা, হতে পারে কোথাও বেড়াতে যাবার প্ল্যান, হতে পারে সামনে থাকা সূর্যাস্তের দৃশ্যের বর্ণনা। গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে যে, ইতিবাচক কোনো কিছু কাগজে-কলমে লেখার ফলে আমাদের জীবনের খুশি প্রভাবিত হয়। আর এভাবে কোনো কিছু শেখা এবং মনে রাখাও সহজ হয়।

আসল ম্যাপ ব্যবহার করুন
অচেনা কোনো জায়গায় বেড়াতে যান এবং আসল ম্যাপ ব্যবহার করুন
গুগল আর্থ আসলে এতো বেশি তথ্য দেবে আপনাকে, যে ভ্রমণের সব মজাই উড়ে যাবে। এর চাইতে আসল একটি কাগজের ম্যাপ হাতে নিন। ম্যাপের নিশানাগুলো বুঝে নিন নিজে থেকে। অচেনা কোনো জায়গায় ঘুরে বেড়ান ইচ্ছে মতো।

আসল একটি বই পড়ুন
বইয়ের আকর্ষণ এখন আমরা অনেকেই ভুলে গেছি। নতুন বা পুরনো একটি বইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে থাকা গন্ধ, আঙ্গুলের ডগায় বইয়ের পাতা ওলটানোর স্পর্শ- এসবের সাথে অনলাইনে পিডিএফ ফাইল পড়ার কোনো তুলনাই হয় না আসলে। একটি বই খুলে বসুন। মনটাকে অনেক হালকা লাগবে।

পুরনো ছবির অ্যালবাম ঘাঁটুন
ফেসবুকের অ্যালবামে থাকা ছবি কয়েক বছরের পুরনো হলেও তা ঠিক পুরনো মনে হয় না। ছবির নিচে থাকা ডেট দেখলেই কেবল বোঝা যায় তা ঠিক কতদিনের পুরনো। কিন্তু অ্যালবামে থাকা ছবি নিজেরাও পুরনো হতে থাকে সময়ের সাথে। স্মৃতির মতো তাদের ওপরেও পড়ে ধুলো, আর হয়ে উঠতে থাকে হলদেটে। একটা অ্যালবাম বের করে দেখুন, নিজের স্মৃতিগুলোকে হাতড়ে বের করে আনুন মনের গহীন থেকে।

প্রকৃতির দিকে তাকান
আমরা সুন্দর কিছু দেখলেই সবার আগে ভাবি, এর ছবি তুলে আপলোড করতে হবে! কিন্তু এই চিন্তার ফাঁকে সেই সৌন্দর্য হারিয়ে যায় আমাদের মন থেকে। এমন চিন্তা করার ফলে আমাদের স্মৃতি থেকে সেই দৃশ্য হারিয়ে যায় খুব সহজেই। হ্যাঁ, গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য এটি। কি করবেন তাহলে? সুন্দর একটি সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয় দেখুন, কিন্তু এর ছবি তোলার জন্য কসরত করবেন না। মন দিয়ে শুধু দেখতেও থাকুন।

হাতে তুলে নিন একটি বাদ্যযন্ত্র
সুন্দর একটা গিটার হাতে তুলে নিন। অথবা একটি ভায়োলিন বা বাঁশি। নিজের প্রচেষ্টায় যখন একটি সুর তৈরি হবে, তখন কতো ভালো লাগবে বলুন তো? শুধু তাই নয়, কোনো একটি বাদ্যযন্ত্র বাজালে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে, স্ট্রেস কমে এবং মস্তিষ্ক থাকে সুস্থ। বাজাতে না জানলে কি হয়েছে, শেখার কোনো বয়স নেই তা মনে রাখবেন!

নিজের সন্তান অথবা বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটান
যন্ত্রের সাথে থাকতে থাকতে নিজেরাও যন্ত্র হয়ে গেলে কি চলবে? নিজের জীবনের প্রিয় মানুষগুলোকে সময় দিন। যন্ত্র আপনাকে ভালবাসবে না, ভালবাসবে এই মানুষগুলোই।