আলঝেইমার্স ঠেকাতে দরকার পর্যাপ্ত ঘুম

361

অনিদ্রার সাথে বেশ কিছু রোগের সম্পর্ক আছে বলে ধারণা করা হলেও তা প্রমাণ করাটা সহজ নয়। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র এক রাত ঘুম না হলেও আলঝেইমার্স রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

আলঝেইমার্স রোগে মস্তিস্কের কোষ ক্ষয় হয়ে যায়। সাধারণত ৬৫ বছরের বেশী বয়সী মানুষের মাঝে এই রোগটি দেখা যায়। তবে অন্যান্য বয়সের মানুষের মাঝেও তা দেখা দিতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত হলে মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। প্রথম দিকে রোগী সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ভুলে যান, কিন্তু অতীতের স্মৃতি মনে থাকে। তারা নিজেদের পরিবারের মানুষকে ভুলে যেতে পারেন, খাবার খাওয়া বা পোশাক পরার মতো দৈনন্দিন কাজগুলো কীভাবে করতে হয় তাও ভুলে যেতে পারেন।

মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার পাশাপাশি মনোযোগ হারানো, বিভ্রান্তি, মেজাজের পরিবর্তন, পথ হারিয়ে ফেলা, হাঁটতে অসুবিধা হওয়ার মতো লক্ষণগুলো দেখা যায় আলঝেইমার্স রোগীদের মাঝে।

আলঝেইমার্স রোগের অন্যতম একটি শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হলো মস্তিষ্কে বেটা-অ্যামাইলয়েড পেপটাইড রাসায়নিকটির উপস্থিতি। মস্তিষ্কের বিভিন্ন জায়গায় এই রাসায়নিকটি জমাট বেঁধে থাকলে তা মস্তিষ্কের ক্ষতি করে, এমনটাও বলেন অনেকে। মূলত আলঝেইমার্সের বেশ খারাপ একটি লক্ষণ হলো বেটা-অ্যামাইলয়েড পেপটাইডের উপস্থিতি।

বেটা-অ্যামাইলয়েড পেপটাইডের উপস্থিতি তথা আলঝেইমার্সের ঝুঁকি নির্ণয়ে এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করেন ২০ ব্যক্তি।

প্রথমে এক রাত ভালো ঘুমের পর এই ২০ জন অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্কের স্ক্যান করা হয়। এরপর তাদেরকে ৩০ ঘণ্টা জাগিয়ে রেখে আবারো স্ক্যান করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঘুম কম হওয়ার ফলে ২০ জনের মাঝে ১৯ জনেরই মস্তিষ্কে বেটা-অ্যামাইলয়েড পেপটাইডের পরিমাণ বাড়ে গড়ে পাঁচ শতাংশ।

মস্তিষ্কের যেসব অংশে বেটা-অ্যামাইলয়েড পেপটাইডের পরিমাণ বেশি দেখা গেছে, এসব অংশে সাধারণত ক্ষণস্থায়ী স্মৃতি জমা থাকে।

গবেষণায় এটাও দেখা গেছে, ৩০ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে থাকার পর অংশগ্রহণকারীদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছে। এর পেছনেও বেটা-অ্যামাইলয়েড পেপটাইডের ভূমিকা আছে বলে ধারণা করা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে।

তবে এটাও ধারণা করা হয়েছে, একজন সুস্থ মানুষও যদি বেশিদিন না ঘুমিয়ে থাকেন, তাহলে তার মস্তিষ্কে বেটা-অ্যামাইলয়েড পরিষ্কার হবার প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হবে।