ক্রমশ বাড়ছে ভয়, আমি নিরাপদ তো?

439

পর্ণা সেনগুপ্ত : কেন এই পাশবিক আচরণ? এই নৃশংসতা? কেন এত অস্থিরতা? দুর্বলদের ওপর সবলদের কর্তৃত্ব ফলানোর চেষ্টা? তা বলে এই পরিণতি? শিশুও পার পাবে না?

প্রশ্ন সব গোলমাল হয়ে যাচ্ছে৷ উত্তর তো নেই-ই, সঙ্গে ভাবার অবকাশটাও হারিয়ে যাচ্ছে৷ একটার পর একটা৷ এক ক্ষত শুকোতে না শুকোতেই আবার আঘাত৷ মহামারির মতো ছড়িয়ে যাচ্ছে এই ব্যাধি৷ ধর্ষণের সংখ্যা যত বাড়ছে, আমরা, সাধারণ ভারত মূক হয়ে পড়ছি ক্রমশ৷

কিন্তু নিজেদের পুরুষত্ব ফলাতে ধর্ষণকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। শ্রেণী-বৈষম্য এবং পুরুষ-শাসিত যে সমাজে হিংসা ছড়িয়ে ভোট পাওয়ার চেষ্টা আশঙ্কাজনক-ভাবে বাড়ছে, সেখানে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণের ঘটনাকে স্বাভাবিক পরিণতি হিসাবে দেখছেন অনেকেই।

মূলত মেয়ে ভ্রূণ হত্যার কারণে ভারতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা কম। প্রতি ১০০ মেয়ে শিশুর জন্মের তুলনায় ১১২ টি ছেলে শিশু জন্ম নেয়। এ কারণে, স্বাভাবিকের চেয়ে নারীর সংখ্যা ভারতে প্রায় ছয় কোটি ৩০ লাখ কম।
হবে নাই বা কেন? যেখানে এক শিশুকন্যাকে ঠিক ভাবে বসতে শেখানো হয়, সহবত শেখানো হয়, কিন্তু পুত্র সন্তানকে কেও নজর ঠিক করতে শেখায় না৷  বাড়ির কাজ করা একা মেয়েদের দায়িত্ব, পুরুষ সন্তান সেখানে পুরুষ সিংহ৷ কেন? আর কতদিন সেই মানসিকতার শিকার হয়ে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম?

ভারতের সামাজিক এই বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হয় শুধু মেয়েদের৷ নিজেকে রক্ষা করতে চাইলে, ঠিকমতো পোশাক পরো, পুরুষ সঙ্গী ছাড়া বাইরে যেওনা, অথবা ঘরের ভেতরে থাকো।
সবচেয়ে আশঙ্কা যেটা তা হলো এখন অধিক সংখ্যায় শিশুরা টার্গেট হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যানেই দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে শিশু ধর্ষণের ঘটনা দ্বিগুণ হয়েছে। দেশে ধর্ষণের শিকার নারীদের ৪০ শতাংশই শিশু।

এই পরিসংখ্যান ভাবাচ্ছে, আতঙ্কিত করছে আমাদের৷ কিন্তু পথ খুঁজে পাচ্ছি না আমরা৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়৷ প্রোফাইল পিকচার কালো করলেই সমাধান মিলবে না৷ চাই ধর্ষকের আর নির্যাতনকারীর কড়া শাস্তি৷ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি৷ দীর্ঘমেয়াদি বিচারের ফাঁক গলে যেন না বেরিয়ে যায় কালো হাত৷ সেই পথ তৈরি করতে হবে আমাদেরই৷

প্রত্যেক ভারতীয়ই যারা নিয়মিত সংবাদপত্র পড়েন, বিভিন্ন টি.ভি নিউজ চ্যানেলে চোখ রাখেন অথবা বিভিন্ন মিডিয়ার ফেসবুক পেজে ব্রাউস করেন তারা এখন এতটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন, যে ধর্ষণ শব্দে আর তারা শিউরে ওঠেন না৷ ক্রমশ আতঙ্ক গ্রাস করে তাদের৷ এখন এমন অবস্থা দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে৷ নির্ভয়া, আসিফা, উন্নাওয়ের সেই মেয়েটি তো মুখ মাত্র৷ কোনও রাজনৈতিক দলের রং গায়ে মাখার দরকার নেই, বেরং ছবিগুলি একের পর এক গল্প বলে যায়৷