প্রাকৃতিক রঙে চুল ডাই করুন

315

প্রকৃতি আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে একগুচ্ছ উপহার৷ যা দিয়ে রূপচর্চার ডালি সাজানো যায়৷ রাসায়নিক পদার্থযুক্ত ‘হেয়ার ডাই’ চুলের ক্ষতি করে। আবার পার্লারে গিয়ে চুল রং করানো বেশ খরচ সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে নিজেই তৈরি করতে পারেন চুল রাঙানোর উপাদান।

বিট ও গাজর: বিটরুট অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ভালো উৎস। গাজরের উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলে লালচে-ভাব আনতে সাহায্য করে। এই দুই উপাদান থেকে রস তৈরি করে চুলে স্প্রে করুন।
যদি রস তৈরিতে সমস্যা হয় তাহলে পেস্ট করে ব্রাশের সাহায্যে চুলে লাগান। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ব্লো ড্রায়ার অথবা সূর্যের আলোতে চুল শুকিয়ে নিন। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। ‘কালার প্রোটেক্টিং’ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। ফলে রং দীর্ঘস্থায়ী হবে।

চা বা কফি: পছন্দের চা বা কফির মতো রং চাইলে এক টেবিল-চামচ কফি ২০ মিনিট ধরে ফুটিয়ে নিন। জল শুকিয়ে তিন ভাগের একভাগ হয়ে আসলে সেটা ঠাণ্ডা করে ছেঁকে আলাদা করে রাখুন।
চুলে ভালো মতো শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করে কফির পানি চুলে লাগান। সপ্তাহে দুবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। চুলের রংয়ের অসমতা দূর করতে ও লালচেভাব আনতে এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর।
সনাতন পদ্ধতি: সাদা চুল রং করার প্রাচীন পদ্ধতি হল মেহেদির ব্যবহার। চুল রং করার এটাই সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উপায়। এটা কেবল চুল রং করে না বরং এর কন্ডিশনিং উপাদান চুল মসৃণ করতে সাহায্য করে। তাছাড়া মেহেদির রং প্রায় এক মাসের মতো স্থায়ী হয়।

আধা কাপ মেহেদির গুঁড়ার সঙ্গে আধা কাপ পানি মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে ব্রাশের সাহায্যে চুলে লাগান। দুই ঘন্টা অপেক্ষা করে কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বাদামি রং চাইলে মেহেদি পেস্টের সঙ্গে কফি যোগ করুন।
চুলে জাফরানের ব্যবহার: এক টেবিল-চামচ জাফরান দুই কাপ পানিতে ২০ মিনিট ধরে ফুটান। তরল ঠাণ্ডা হয়ে এলে তা চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
আখরোট ব্যবহার: আখরোটের খোসা ফেলে না দিয়ে চুল রং করার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। খোসাগুলো গুঁড়া করে আধা মিনিট পানিতে ফুটিয়ে নিন। পানি ঠাণ্ডা হলে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগান। এক ঘণ্টা মাথায় রাখার পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে চুলে গাঢ় বাদামি রং পাওয়া সম্ভব।