লিভ-ইন সম্পর্কে মহিলারা কি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন?

1307

খুব স্বাস্থ্যকর, সহজ -সরল লিভ ইন রিলেশনসিপ৷ দায়বদ্ধতা এখানে বলপূর্বক নয় বরং মন থেকেই৷ মনের আনন্দে  ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে যখন ইচ্ছে, যতখুশি একই কুটীরে বাস৷ তাই ঝগড়া-ভালোবাসায় লিভ ইন সুপারহিট৷ তাও খুব স্বাভাবিক একটা প্রশ্ন অনিচ্ছাকৃতই ওঠে৷ আর তা হল- কতটা খুশি সেই মহিলা সঙ্গী? কোথাও কি দিনের শেষে একটা নিরাপত্তাহীনতা ভাবায় না? উত্তর খুজলাম আমরা৷

মনোবিদদের অনেকেই মনে করছেন চাকুরিরতা মহিলারা লিভ ইনে সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী৷ তাঁরা লিভ ইন সম্পর্কের নিরাপত্তা নিয়ে খুব বেশি ভাবিত নন৷ কারণ অবচেতনে কোথাও তিনি জানেন, আর্থিক নিরাপত্তা তাঁর হাতেই৷ মনোবিদ অনিন্দিতা রায়চৌধুরী জানাচ্ছেন, মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে সমাজই শেখায়৷ তাই চাকুরিরতা মহিলারাই লিভ ইনে বেশি সাবলীল৷ মাঝপথে পুরুষ সঙ্গী কোনও কারণে সরে গেলে সেই ধাক্কা নিতে তারা অনেকটাই প্রস্তুত৷ আবার মনোবিদ অনুত্তমা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টিকে ছেলে-মেয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না৷ সবকিছু জেনেই একটা লিভ ইন রিলেশন হয়৷ নিজস্ব রসায়নেই গড়ে ওঠে সহবাসের ভীত৷ সেথানে নিরাপত্তাহীনতার কোনও প্রশ্নই নেই৷ বরং ভালোবাসা এখানে অনেক বেশি উদার৷ বিয়ে করেও অনেক মহিলা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেই তিনি মনে করেন৷ তাঁর মতে, লিভ-ইন রসায়নে ছেলে -মেয়েরা নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে বেশি ভাবেনই না৷

অবশ্য শুধু মহিলা নন, পুরুষরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন বলে মনে করেন মুম্বইয়ে কর্মরত রুদ্রনীল সেনগুপ্ত৷ দীর্ঘ লিভ ইন সম্পর্ক হঠাৎ ভাঙলে পুরুষরাও মারাত্মক মানসিক নিরাপত্তায় ভোগেন বলে মনে করেন রুদ্রনীল৷ তাই শুধু মহিলারাই প্রভাবিত হচ্ছে বলা ভুল৷ ভারতীয় সমাজে এখনও লিভ ইন সম্পর্কে ভুরু কোচাকানো চলছে৷ সবকিছু উপেক্ষা করে ছেলে-মেয়ে দুজনেই লিভ ইন সম্পর্কে আবদ্ধ হচ্ছেন৷ যতটা ঝুঁকি মহিলা নিচ্ছেন ততটাই সেই পুরুষ নিচ্ছেন৷ তাই নিরাপত্তাহীনতা বিষয়টিকে ভিন্ন না করে সাম্যতা দিতে আগ্রহী রুদ্রনীল৷ কিন্তু যদি লিভ ইন সম্পর্কে থাকার সময়ই গর্ভবতী হন সেই মহিলা? তাহলেও কী সেই সাম্যতা বজায় থাকে? শিক্ষিকা শাশ্বতী দত্ত রায় জানাচ্ছেন, লিভ ইন সম্পর্কে থাকা বেশিরভাগ মহিলা গর্ভবতী হলে তারা সাহসের সঙ্গে সমাজের মুখোমুখি হতে পারেন না৷ মনে মনে তাঁরা মধ্যবিত্ত সমাজের অলিখিত কিছু নিয়মকে মেনে চলেন৷ জন্ম নেওয়া সন্তানের বাবা যদি হঠাৎ চলে যান? যদি অন্য কোনও মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক থাকে? এরকম নানা ভাবনা ভাবায় সেই মহিলাকে৷ তাই লিভ-ইন সম্পর্কে সেই সাহস প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি৷ যখন সমাজের সমস্ত নিয়মের মুখে চড় কষিয়ে ছেলে মেয়ে লিভ ইন সম্পর্কে যাচ্ছেন,তখন সেই সাহস ধরে রাখাও একান্ত প্রয়োজন৷ কারণ,‘শিশুর পিতা শিশুর অন্তরে’-উক্তি মাত্র৷ পিতৃপরিচয় হীন সন্তানকে বড় করার সাহস থাকলেই লিভ-ইনে যাক মহিলারা বলে মত শাশ্বতী দত্ত রায়ের৷

নিরাপত্তাহীনতা একটি মানসিক রোগ বলেও মনে করছেন অনেকে৷ লিভ-ইন সম্পর্ককে স্বাভাবিক ভাবে নেওয়া হোক৷ অযথা জটিল করার প্রয়োজন নেই বলেই মত তরুণ প্রজন্মের একাংশের৷

তাই, খোলামেলা অকপট সম্পর্কে আনুন সুস্থ মানসিকতা, নিরাপত্তাহীনতা নয়৷