অনিয়মিত পিরিয়ড? রইল ঘরোয়া সমাধান

45

বেশি স্ট্রেস, পরিশ্রম, দুর্বলতা, জীবনযাত্রায় বড় কোন পরিবর্তন… এসব কারণে অনিয়মিত পিরিয়ড হতে পারে। পিরিয়ড রেগুলার করতে চিকিৎসকেরা সাধারণত হরমোন থেরাপি দিয়ে থাকেন, যা আমরা খাবার পিল হিসেবে চিনি। কিন্তু এসব পিল-এর অনেক ধরনের সাইড ইফেক্ট থাকে। মোটা হয়ে যাওয়া, খাবারে অরুচি, ব্রণ, মাথাব্যথা, পা ব্যথা, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সহ নানান অসুবিধা দেখা যায়। তাই আসুন জেনে নেই ৯টি ঘরোয়া সমাধান সম্পর্কে যার মাধ্যমে অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা দূর করা যায়৷

কাঁচা পেপে
কাঁচা পেপে পিরিয়ড রেগুলেশন-এ সাহায্য করে। কাঁচা পেপে জরায়ুর মাসল ফাইবার কন্ট্রাকশন-এ সাহায্য করে। পর পর কয়েক মাস নিয়মিত কাঁচা পেঁপের রস খেলে পিরিয়ড নিয়মিত হয়, তবে পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে এটি না খাওয়াই ভালো।

কাঁচা হলুদ
হলুদ পিরিয়ড নিয়মিত করতে এবং শরীরে হরমোন ব্যাল্যান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদ জরায়ুর মাংসপেশী সঙ্কোচন-প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ পিরিয়ড-এর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এক কাপ দুধে চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ কাঁচা হলুদ নিয়ে মধু বা গুঁড় দিয়ে কিছুদিন খেয়ে দেখুন, পরিবর্তন নিজেই টের পাবেন।

অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর শাঁস রূপচর্চার পাশাপাশি মাসিক নিয়মিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি হরমোন রেগুলেশন-এ সাহায্য করে। সবথেকে ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তাজা অ্যালোভেরা পাতার রস সামান্য মধুর সাথে মিশিয়ে খান৷ তবে পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে না খাওয়াই ভালো।

3

যোগ ব্যায়াম এবং মেডিটেশন
মাসিক নিয়মিত না হওয়ার প্রাথমিক কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম কারণ হল স্ট্রেস বা মানসিক চাপ। শরীরে যে সমস্ত হরমোন পিরিয়ড নিয়ন্ত্রণ করে স্ট্রেস-এর কারণে সেগুলোর ব্যাল্যান্স নষ্ট হয়। যার ফলে ঠিকমত পিরিয়ড হয় না। যোগ ব্যায়াম এবং মেডিটেশন স্ট্রেস দূর করতে সাহায্য করে। পিরিয়ড রেগ্যুলার করতে সব থেকে উপযোগী পদ্ধতিগুলোর মধ্যে এই দুটি অন্যতম।

আদা
১ কাপ জলে ১ চা চামচ পরিমাণ মিহি আদা কুঁচি নিয়ে ৫-৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এখন এর সঙ্গে অল্প পরিমাণে চিনি বা মধু মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন খাবার খাওয়ার পর এই পানীয়টি তিন বেলা খাবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এই পানীয়টি ভরা পেটে খেতে হবে। কয়েক মাসের মধ্যেই সুফল পাবেন। আদা পিরিয়ড সাইকেল রেগুলেশন-এ সাহায্য করে এবং অনিয়মিত পিরিয়ড নিয়মিত করে।

জিরে
রান্না ছাড়াও জিরের আরো অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। মাসিক নিয়মিত করতে জিরে ভালো কাজ দেয়। এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এক গ্লাস জলে ২ চা চামচ জিরে নিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে এই জল এবং জিরা দুটোই খেয়ে ফেলুন। সুফল পাবেন।

দারুচিনি
যে সমস্ত খাবার বহুগুণে গুণান্বিত, দারুচিনি তাঁর মধ্যে অন্যতম। অনিয়মিত পিরিয়ড দূর করতে চা বা লেবুর রসের সাথে দারুচিনি গুঁড়ো করে মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি পিরিয়ড নিয়মিত করার পাশাপাশি পিরিয়ড কালীন ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে।

ফল ও সবজির জুস
খাদ্য তালিকায় বেশি বেশি ফল ও সবজির জুস রাখুন। এটি শরীর ঠাণ্ডা রাখে ও হরমোন রেগুলেশন-এ সাহায্য করে। যেমন গাজর, পুদিনা পাতা, করলার রস, ভিটামিন সি জাতীয় ফলের রস ইত্যাদি দিনে দু’বার করে খেতে পারেন। তবে পিরিয়ড নিয়মিত হওয়াতে গাজর এবং আঙুরের রসই সবথেকে বেশি কার্যকরী।

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার
পিরিয়ড ইরেগ্যুলার হওয়ার অনেক কারণের মধ্যে একটা হল রক্তে ইনসুলিন ও সুগার-এর মাত্রার তারতম্য। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার-এর মাধ্যমে আপনি এর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এজন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হল, এক গ্লাস জলে ২ চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে প্রতিদিন খাবার খাওয়ার আগে খেয়ে নিন। আপনার পিরিয়ড সাইকেল নিয়ন্ত্রণে এটি অনেক সাহায্য করবে।

একটা বিষয় মনে রাখা উচিত, শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলেও অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা হতে পারে। এজন্য এই পদ্ধতিগুলোর পাশাপাশি আয়রনজাতীয় খাবার যেমন- মুরগীর মাংস, চিংড়ি, ডিম, কচু শাক, লাল শাক, পালং শাক, মিষ্টি আলু, ফুলকপি, মটরশুঁটি, তরমুজ, খেজুর, গাব, টমেটো, ডাল, ভুট্টা, শস্যদানা ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।

PAIN-KILLER_PIC
কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে?
সাধারণত জীবনে কিছু ক্ষেত্রে এমনিতেই অনিয়মিত পিরিয়ড হতে পারে। তাতে ভয়ের কিছু নেই। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মিত পিরিয়ড হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, যেমন-

১. যদি হটাৎ করে পিরিয়ড বেশি ইরেগুলার হয়ে যায়।

২. পর পর তিন মাস পিরিয়ড না হলে।

৩. যদি পিরিয়ড ২১ দিনের সাইকেলে হয়।

৪. পিরিয়ড সাইকেল ৩৫ দিনের বেশি হলে।

৫. যদি পিরিয়ডে অতিরিক্ত ব্যাথা থাকে বা অনেক বেশি হেভি ফ্লো থাকে।

৬. পিরিয়ড এক সপ্তাহের বেশি থাকলে।

৭. যদি ৪৫ বছর বয়সের আগে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায় বা ৫৫ বছর বয়সের পরেও পিরিয়ড হতে থাকে।