চুলের যত্নের গোড়ার কথা…

883

লম্বা, ঘন, একরাশ কালো চুল এখনও আউট অফ ফ্যাশন নয় কিন্তু৷ সে আপনি যতই হেয়ার কাটের বাহারে জগত মাতান না কেন৷ হেয়ার কাট বা ফ্যাশনে ইন হেয়ার স্টাইলেও ধরা পড়ে চুলের পুষ্টি৷ ঝকঝকে ঘন চুলে যে হেয়ার কাট মানাবে, অপুষ্টিতে ভোগা পাতলা ম্রিয়মাণ চুলে কি মানাবে আপনার পছন্দের স্টাইল? না হয়তো৷ তাই নজর দিন৷ চুলের স্বাস্থ্যই কিন্তু বলে দেয় আদতে আপনি কতটা সুস্থ৷
এইখানেও রয়েছে খুব ছোট্ট একটি সমীকরণ৷ সঠিক যত্নের অভাব এবং অনিয়মিত খাদ্যাভাস চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত করে থাকে। অপরদিকে, পরিপূর্ণভাবে চুলের যত্ন এবং সঠিক খাদ্যাভাস মেনে চললে, সেটা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে থাকে। জেনে নিন এমন দারুণ কিছু টিপস যা সাহায্য করবে চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে।

Castor-Oil

ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করুন
ভিটামিন-ই, এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিডস, বিশেষ করে ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিডস থাকার ফলে ক্যাস্টর অয়েল চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। ক্যাস্টর অয়েল অনেক বেশী ঘন বলে নারকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সাথে সমপরিমাণে মিশিয়ে নিয়ে মাথার তালুতে লাগিয়ে ৩০ মিনিটের মতো ম্যাসাজ করতে হবে। এরপর সারারাত রেখে দিয়ে সকালে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

hair-Oil-Massage

মাথায় ত্বক ম্যাসাজ করা
ভালোভাবে মাথার ত্বক ম্যাসাজ করলে চুলের গোড়ার রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়৷ যা চুলের গ্রন্থিকোষগুলোকে উদীপ্ত করতে সাহায্য করে। তাই প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবারের জন্য চুলে হট অয়েল ম্যাসাজ ট্রিটমেন্ট করানো উচিৎ। যেটা ঘরেই দারুণভাবে করে ফেলা যায়। পুরো চুলে হালকা গরম তেল লাগিয়ে দুই হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে মাথার নীচ থেকে উপরের দিকে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করতে হবে ৫-৭ মিনিট সময় নিয়ে।

food-for-hair

সঠিক খাদ্যাভাস গড়ে তোলা
স্বাস্থ্যকর ও স্বাভাবিক চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন-এ, বি, সি, ই, আয়রন, জিঙ্ক, কপার, ম্যাগনেসিয়াম ও সেলেনিয়াম থাকা প্রয়োজন। তবে এগুলির মধ্যেও ভিটামিন-বি সবচাইতে বেশী জরুরি ও প্রয়োজনীয়, যা চুলের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে৷
তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে দুধ, পনীর, দই, মুরগীর মাংস, ডিম, শাক, ব্রকলি,ওটস ইত্যাদি রাখতে হবে৷ একই সাথে মাছ, বাদাম, অলিভ অয়েল ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ অন্যান্য খাবারের কথাও ভুলে গেলে চলবে না। খেয়াল রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেন শরীরে পুষ্টিহীনতা দেখা না দেয়।

চুল উল্টে ফেলা

চুল উল্টে ফেলা
এই পদ্ধতিতে চুল খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় বলে জানা গেছে। কিছুই না, শুধুমাত্র সব চুলকে একত্রিত করে মাথার সামনে নিয়ে এসে মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে ৪-৫ মিনিট থাকা। এইভাবে মাথার সকল চুল সামনের দিকে থাকবে। এতে করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় বলে চুলের বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়ে থাকে।

চিন্তামুক্ত থাকা

চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করা
অতিরিক্ত চুল পড়ার ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে অতিরিক্ত চিন্তা করাকে। অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা চুলের বৃদ্ধির চক্রের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে, চুল খুব দ্রুত পড়ে যাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। যে কারণে চুল তুলনামূলক বেশি পড়ে। তাই, চুলের বৃদ্ধি স্বাভাবিক ও দ্রুত করতে চাইলে একদম মানসিক দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

egg-hair-mask

ডিমের হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা
নিঃসন্দেহে চুলের জন্যে ডিম খুবই উপযোগী একটি উপাদান। কারণ ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, আয়রন, ফসফরাস, জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম। প্রতি মাসে অন্তত একবার হেয়ার মাস্ক তৈরি করে চুলে ডিম ব্যবহার করা প্রয়োজন।
হেয়ার মাস্ক তৈরির জন্য দুটি ডিমের কুসুম এবং দুই টেবিল চামচ অলিভ অয়েল একসাথে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা জলের সাহায্যে খুব ভালোভাবে শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে।